বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত সিয়াম সিকদার পিতা কামাল সিকদারের নামে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত খুলনা-১, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ /এর ৯ এর খ ধারা মোতাবেক ভিকটিমের জবানবন্দী তে এ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন শেখের পক্ষে একটি ধর্ষণ মামলা রুজু হয়েছে। উক্ত মামলার সাক্ষীরা হলেন ভিকটিম রুকসানা খাতুন, রোজিনা খাতুন, সিরাজ মোল্লা, আলিম মোল্লা, সমীর সরদার, হীরা বেগম, হ্যাপি খাতুন, মোহাম্মদ নাঈম মোল্লা সহ আরো অনেকেই।

যশোর অভয়নগর চন্দ্রপুরের চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ কাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত সিয়াম শিকদারের ব্যাপারে গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে সিয়াম সিকদার ৫ই আগস্টের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় আর তারপর থেকেই ধর্ষক সিয়াম শিকদার একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে তার এলাকা হতে যার মধ্যে অন্যতম ভিকটিম রুকসানা খাতুন।
সেনাবাহিনীর সৈনিক সিয়াম শিকদারের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় সিয়াম সিকদার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ইউনিট নং ১১ বীর, সৈনিক নং ৪৫৩৭ ৭৬৪, কোর- বীর এর অধীনে কর্মরত আছে। ধর্ষক সিয়াম শিকদারের ব্যাপারে দৈনিক ঢাকার ডাকের ক্যামেরার গভীর অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে লোমহর্ষ করার মতো তথ্য ১৮ই এপ্রিল ২০২৬- সৈনিক সিয়াম সিকদার কর্মস্থল হতে নিজ গন্তব্যে২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি নিয়ে ফিরে আসে এবং তার প্রেমিকা রুকসানা খাতুনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে, পরবর্তী ১৯ শে এপ্রিল ২০২৬ সিয়াম সিকদার নিজ এলাকা হতে সহযোগী মোঃ নাঈম মোল্লা কে সাথে নিয়ে অভয়নগর থানার দত্তগাতী দামুখালি এলাকাতে অবস্থান করে তার প্রেমিকা রুকসানার জন্য পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া কাটিঙ্গা থেকে রোকসানা আসলে তাকে নিয়েই রওনা দেয়।
১৯ শে এপ্রিল ২০২৬ আনুমানিক বেলা ১১ টার সময় ভ্যান যোগে রুকসানা ও তার প্রেমিকা ধর্ষক সিয়াম শিরোমণি ক্যান্টনমেন্ট জাহানাবাদ চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, এবং উক্ত স্থানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা শেষে পরবর্তী সময়ে ধর্ষক সিয়াম তার নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে প্রেমিকা রুকসানাকে নিয়ে অভয় নগরের সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান নেয়। উক্ত বাড়িতে ধর্ষক সিয়াম রুকসানাকে প্রথম, ধর্ষণ করে পরের দিন সকাল বেলা ২০শে এপ্রিল ২০২৬ আনুমানিক বেলা ১১ ঘটিকার সময় ধর্ষক সিয়াম তার প্রেমিকা রুকসানা কে সোনাতলার ঘাট পেরিয়ে, খুলনার শিরোমনি হয়ে খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘোরা ঘুরি শেষে, ফুলতলা হয়ে জামিরিয়া ইউনিয়নের ডাউকোনা গ্রামের সমীর সরদারের পিতা ওয়াজেদ সরদারের বাড়িতে অবস্থান নেয় রাত এগারোটার পরে।
সমীর সরদারের বাড়িতে যাওয়ার পূর্বে রাস্তা হতে সিয়াম শিকদার নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক বলে পরিচয় দেয়, এবং বলে আমরা বিয়ে করেছি একে অপরে, বাড়ি থেকে এ বিয়ে মেনে নিচ্ছে না, আমাদেরকে এক, রাতের জন্য একটু থাকার জায়গা দেন।
গ্রামের বোকাসোকা কৃষক সমীর সরদার সরল বিশ্বাসে নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ভালোবেসে ধর্ষক সিয়াম শিকদার ও তার প্রেমিকা রুকসানাকে তার বাঁশ গৃহের একটি রুম ছেড়ে দেয় রাত্রি যাপন করার জন্য। প্রকাশ থাকে সমীরের মেয়ে হ্যাপির সঙ্গে তাদের পূর্ব পরিচিতি ছিল, পরের দিন সকাল বেলা ২১ এপ্রিল ২০২৬ সকাল 8 ঘটিকার সময় ধর্ষক সিয়াম তার প্রেমিকা রোকসানা কে নিয়ে পার্শ্ববর্তী থানা অভয়নগর পায়রা ফকিরহাট পৌছায় এবং তার প্রেমিকাকে সমাপ্তি নামে আর এক বান্ধবীর বাসায় ছেড়ে দিয়ে চলে যায় লম্পট চরিত্রহীন ধোকাবাজ সিয়াম শিকদার নিজের গন্তব্যে।
ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিম এবং আসামি উভয়ের নিজ নিজ এলাকাতে যেয়ে জানা যায় ৬ মাস পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে অভয়নগরের চন্দ্রপুর এলাকার সিয়াম শিকদারের সাথে পরিচিত হয়, খুলনার বালিকা রুকসানা। তখন থেকেই শুরু হয় প্রেমলীলা বা প্রেম, প্রেম খেলা। সর্বশেষ ধর্ষক প্রতারক সিয়াম শিকদার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছামত ধর্ষণ করে রুকসানা কে এ সকল ব্যাপারে ধর্ষক সিয়াম শিকদারের পরিবার অনেক কিছুই জানতো। বিভিন্ন সময় সিয়াম শিকদার তার বোনদের সহযোগিতাও পেয়েছে। বা তার পরিবারের জন্যই সিয়াম শিকদার তার বাড়িতে নিয়ে রুকসানাকে ধর্ষণ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন