খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বান্দরবানে সমন্বিত জীবিকায়ন সহায়তা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

কৌশিক দাস
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে সমন্বিত জীবিকায়ন সহায়তা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস) এর যৌথ উদ্যোগে বান্দরবান জেলার নির্বাচিত উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন “সমন্বিত জীবিকায়ন সহায়তা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি” এর জেলা পর্যায়ের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বান্দরবানের গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস) এর প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সজীব কান্তি রুদ্র। এসময় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা.প্রসেনজিৎ , পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় অংশীজনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ইনসেপশন ওয়ার্কশপে কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল, প্রত্যাশিত ফলাফল, অংশীজনদের ভূমিকা, সমন্বয় ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও উপস্থাপন করা হয়।

কর্মসূচির আওতায় বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৬০৭টি পাড়া কেন্দ্রে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিশুকে নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়, এর মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি, নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষাগ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হবে বলে আয়োজকেরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৬১২টি অতিদরিদ্র পরিবার বা প্রায় ৩ হাজার ৬০ জন সদস্যকে সমন্বিত জীবিকায়ন সহায়তার আওতায় আনা হবে। কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচন, কমিউনিটি-ভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন, দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, জীবিকায়ন অনুদান, বাজার সংযোগ এবং সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বান্দরবানের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, শিশুদের শিক্ষা এবং অতিদরিদ্র পরিবারের টেকসই জীবিকায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গুররুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস) এবং কমিউনিটির সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান প্রদান করবে। অপরদিকে, গ্রাউস সহযোগী বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বান্দরবানের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, শিশুদের সুস্থতা ও শিক্ষায় অংশগ্রহণ, পারিবারিক আয় এবং টেকসই জীবিকায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সজীব কান্তি রুদ্র এই ধরণের কর্মসুচী বান্দরবানে বাস্তবায়ন করায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস) কে ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসুচী বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস