খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চুনারুঘাটে ডিআইজির নির্দেশে মাদক সম্রাট কাজল গ্রেপ্তার: স্বস্তিতে পৌরবাসী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
চুনারুঘাটে ডিআইজির নির্দেশে মাদক সম্রাট কাজল গ্রেপ্তার: স্বস্তিতে পৌরবাসী

অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর শহরের বহুল আলোচিত মাদক সম্রাট মো. কাজল মিয়া (৪৭) ওরফে ‘ইয়াবা কাজল’। দীর্ঘদিনের অধরা ও বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এই মাদক কারবারির গ্রেপ্তারে চুনারুঘাট পৌর শহরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চুনারুঘাট থানার একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই খালিদ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স পৌর শহরের নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। কাজল মিয়া চুনারুঘাট পৌরসভার চন্দনা ধলাইপাড় এলাকার মৃত জহুর হোসেনের পুত্র।
সংবাদ প্রকাশের পর ডিআইজির নির্দেশ
সম্প্রতি চুনারুঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং এর নেপথ্যে কাজল মিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় মিডিয়ায়- মাদকের বিস্তারে উদ্বিগ্ন চুনারুঘাট, ইয়াবা সম্রাট কাজলকে গ্রেপ্তারের দাবি’ শিরোনামে তোলপাড় সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নজরে এলে তিনি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
স্থানীয়দের ভাষ্য পৌরসভার চন্দনা ও ধলাইপাড়সহ পুরো উপজেলায় কাজল ও তার সহযোগীদের একচ্ছত্র মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। রাতের আঁধারে ইয়াবার চালান পরিবহন ও কেনাবেচার মূল হোতা ছিল এই কাজল। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণ মানুষ ও প্রতিবাদীদের ভয়ভীতি ও চরম হয়রানির শিকার হতে হতো।জামিন পেলেই ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়তো কাজল।
পুলিশের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস প্রায় দুই দশকের। ২০০৬ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে চুরি, মারামারিসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৮, ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একের পর এক মামলা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বরও তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাদক কারবারে লিপ্ত হন। তার এই বেপরোয়া কার্যক্রমে এলাকার কিশোর ও তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল এবং সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল।এদিকে ‘ইয়াবা কাজল’ গ্রেপ্তারের খবরে চুনারুঘাটের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, মূল হোতা ধরা পড়ায় পৌর এলাকায় মাদকের কেনাবেচা অনেকটাই কমে আসবে।
তবে সচেতন মহলের জোর দাবি- শুধু একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করলেই মাদকের বিস্তার বন্ধ হবে না। কাজলের মতো ব্যক্তিদের নেপথ্যে থাকা মাদকের মূল উৎস, সরবরাহের রুট, পরিবহনকারী ও পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী সহযোগীদেরও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে এই অপরাধীরা আর পার না পেতে পারে।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস