খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গাজীপুরে সুতিয়া নদীতে ডুবে প্রাণ গেল দুই স্কুলছাত্রের

মো : আব্দুল বাতেন বাচ্চু
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে সুতিয়া নদীতে ডুবে প্রাণ গেল দুই স্কুলছাত্রের

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশুই একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিহতরা হলো—বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) এবং একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা দুজনই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়।

একপর্যায়ে সাঁতার কাটার সময় একজন পানিতে বিপদে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শিশুও পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে দুজনই নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখে সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা ভয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে অনেক খোঁজাখুঁজির পর দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার দৈনিক ঢাকার ডাক কে জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে দুই শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে দুই শিশুকে হারিয়ে তাদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোক।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে সুতিয়া নদীতে পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অসাবধানতার কারণে যেন আর কোনো পরিবারের সন্তানকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়, সে জন্য নদীতে শিশুদের সাঁতার কাটার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।