অন্ধ স্বামীর সংসারে নাজমার একটাই চাওয়া—একটি নিরাপদ ঘর
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চর আহম্মদপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমা ও তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামী আফাজ উদ্দীন প্রায় ১২ বছর ধরে অন্ধ। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকে তিনি কোনো কাজ করে উপার্জন করতে পারছেন না। তিন সন্তানকে নিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে প্রতিটি দিনই যেন তাদের কাছে এক কঠিন সংগ্রাম।
পরিবারটির সবচেয়ে বড় কষ্ট—নিরাপদে থাকার মতো একটি ঘরও নেই। জরাজীর্ণ ঘরটিতে বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টির সময় সেখানে থাকা অসম্ভব হয়ে ওঠে। তখন বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাদের।
স্বামীর উপার্জন নেই, সংসারে নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস। অন্যের সামান্য সহযোগিতা আর সহায়তার ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে দিন কাটছে নাজমার পরিবারের। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ—সবকিছুই তাদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নাজমা বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে অন্তত স্বামী-সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর চাই। এলাকার বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আমাদের জন্য একটি ঘর করে দেওয়ার অনুরোধ করছি। মৃত্যুর আগে যেন ভালোভাবে থাকার একটি জায়গা দেখে যেতে পারি।”
তার এই আকুতি যেন কেবল একটি ঘরের জন্য নয়; এটি একজন অসহায় স্ত্রী, একজন দৃষ্টিহীন স্বামী এবং তিন সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আকুল আবেদন।
স্থানীয়রা জানান, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিত্তবানরা যদি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে পরিবারটির মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ তৈরি করা সম্ভব। একটি ঘর হয়তো কারও কাছে সামান্য সহায়তা, কিন্তু নাজমা ও তার পরিবারের কাছে সেটিই হতে পারে নিরাপদ জীবন ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
চর আহম্মদপুর ও আশপাশের এলাকার বিত্তবান, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং মানবিক মানুষের প্রতি অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আফাজ উদ্দীনের অন্ধত্বের অন্ধকারের মধ্যে একটি নিরাপদ ঘরই হতে পারে তার পরিবারটির জীবনে আশার আলো।

আপনার মতামত লিখুন