খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অন্ধ স্বামীর সংসারে নাজমার একটাই চাওয়া—একটি নিরাপদ ঘর

মোঃ আঃ কুদ্দুস
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
অন্ধ স্বামীর সংসারে নাজমার একটাই চাওয়া—একটি নিরাপদ ঘর

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চর আহম্মদপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমা ও তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামী আফাজ উদ্দীন প্রায় ১২ বছর ধরে অন্ধ। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকে তিনি কোনো কাজ করে উপার্জন করতে পারছেন না। তিন সন্তানকে নিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে প্রতিটি দিনই যেন তাদের কাছে এক কঠিন সংগ্রাম।

পরিবারটির সবচেয়ে বড় কষ্ট—নিরাপদে থাকার মতো একটি ঘরও নেই। জরাজীর্ণ ঘরটিতে বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টির সময় সেখানে থাকা অসম্ভব হয়ে ওঠে। তখন বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাদের।

স্বামীর উপার্জন নেই, সংসারে নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস। অন্যের সামান্য সহযোগিতা আর সহায়তার ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে দিন কাটছে নাজমার পরিবারের। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ—সবকিছুই তাদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

নাজমা বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে অন্তত স্বামী-সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর চাই। এলাকার বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আমাদের জন্য একটি ঘর করে দেওয়ার অনুরোধ করছি। মৃত্যুর আগে যেন ভালোভাবে থাকার একটি জায়গা দেখে যেতে পারি।”

তার এই আকুতি যেন কেবল একটি ঘরের জন্য নয়; এটি একজন অসহায় স্ত্রী, একজন দৃষ্টিহীন স্বামী এবং তিন সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আকুল আবেদন।

স্থানীয়রা জানান, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিত্তবানরা যদি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে পরিবারটির মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ তৈরি করা সম্ভব। একটি ঘর হয়তো কারও কাছে সামান্য সহায়তা, কিন্তু নাজমা ও তার পরিবারের কাছে সেটিই হতে পারে নিরাপদ জীবন ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।

চর আহম্মদপুর ও আশপাশের এলাকার বিত্তবান, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং মানবিক মানুষের প্রতি অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আফাজ উদ্দীনের অন্ধত্বের অন্ধকারের মধ্যে একটি নিরাপদ ঘরই হতে পারে তার পরিবারটির জীবনে আশার আলো।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।