খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঝিনাইদহ ও ইবি এলাকায় গুপ্ত নাশকতা: ভারতে পলাতক হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ

মোঃ আবু হুরাইরা মিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহ ও ইবি এলাকায় গুপ্ত নাশকতা: ভারতে পলাতক হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ

ঝিনাইদহ, শৈলকূপা ও পার্শ্ববর্তী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) এলাকায় গুপ্ত নাশকতা, গোপন বৈঠক ও বিশৃঙ্খলা তৈরির মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের নাম। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির শীর্ষে থাকা এই বিতর্কিত নেতা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে, আত্মগোপনে গেলেও বর্তমানে তবিয়তে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রকাশ্য চলাফেরা করছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা চালালেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ রেখে তুহিন মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে বলেও এলাকা জুড়ে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের আধিপত্য কায়েম করতে তুহিন ও তার ক্যাডার বাহিনী দুই দফায় শিক্ষকমণ্ডলীর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। (২০১৩ সালের ২৫ মে)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় তুহিন তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে শাপলা চত্বর এলাকায় শিক্ষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন। (২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি) ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র-নজরুল ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতির নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষকদের ওপর আবারও দ্বিতীয় দফায় হামলার নেতৃত্ব দেয় তুহিন। ক্যাম্পাসে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য একক নিয়ন্ত্রণে রাখতেই তুহিন এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কালো অধ্যায়।
শিক্ষকদের ওপর হামলা ছাড়াও তুহিন ও তার ক্যাডারদের অপকর্মের তালিকা বেশ দীর্ঘ।
ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদের ওপর নেমে আসত নির্যাতন। একাধিকবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তুহিন ও তার ক্যাডাররা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট-বড় প্রতিটি নির্মাণকাজের দরপত্র (টেন্ডার) তুহিনের সিন্ডিকেট ছাড়া সম্ভব হতো না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন আদায় এবং ক্যাম্পাস ও শৈলকূপা সংলগ্ন এলাকার দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।
বর্তমানে ঝিনাইদহ ও শৈলকূপা এলাকায় অবস্থান নিয়ে গোপনে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তুহিন। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সেখান থেকে বার্তা পেয়েই আওয়ামী রাজনীতি ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে পুনর্বাসিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
তুহিনের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামিকে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—তা নিয়ে শৈলকূপা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ। ফ্যাসিবাদ পুনরুত্থানের চক্রান্ত বানচাল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সোচ্চার থাকলে ও তুহিন এর বিষয়ে প্রশাসন কেন নিরব। অনতিবিলম্বে শামসুজ্জামান তুহিনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে ঝিনাইদহ, শৈলকূপা ও ইবি এলাকায় বড় ধরনের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস