ঝিনাইদহ ও ইবি এলাকায় গুপ্ত নাশকতা: ভারতে পলাতক হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ
ঝিনাইদহ, শৈলকূপা ও পার্শ্ববর্তী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) এলাকায় গুপ্ত নাশকতা, গোপন বৈঠক ও বিশৃঙ্খলা তৈরির মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের নাম। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির শীর্ষে থাকা এই বিতর্কিত নেতা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে, আত্মগোপনে গেলেও বর্তমানে তবিয়তে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রকাশ্য চলাফেরা করছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা চালালেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ রেখে তুহিন মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে বলেও এলাকা জুড়ে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের আধিপত্য কায়েম করতে তুহিন ও তার ক্যাডার বাহিনী দুই দফায় শিক্ষকমণ্ডলীর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। (২০১৩ সালের ২৫ মে)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় তুহিন তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে শাপলা চত্বর এলাকায় শিক্ষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন। (২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি) ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র-নজরুল ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতির নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষকদের ওপর আবারও দ্বিতীয় দফায় হামলার নেতৃত্ব দেয় তুহিন। ক্যাম্পাসে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য একক নিয়ন্ত্রণে রাখতেই তুহিন এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কালো অধ্যায়।
শিক্ষকদের ওপর হামলা ছাড়াও তুহিন ও তার ক্যাডারদের অপকর্মের তালিকা বেশ দীর্ঘ।
ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদের ওপর নেমে আসত নির্যাতন। একাধিকবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তুহিন ও তার ক্যাডাররা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট-বড় প্রতিটি নির্মাণকাজের দরপত্র (টেন্ডার) তুহিনের সিন্ডিকেট ছাড়া সম্ভব হতো না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন আদায় এবং ক্যাম্পাস ও শৈলকূপা সংলগ্ন এলাকার দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।
বর্তমানে ঝিনাইদহ ও শৈলকূপা এলাকায় অবস্থান নিয়ে গোপনে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তুহিন। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সেখান থেকে বার্তা পেয়েই আওয়ামী রাজনীতি ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে পুনর্বাসিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
তুহিনের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামিকে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—তা নিয়ে শৈলকূপা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ। ফ্যাসিবাদ পুনরুত্থানের চক্রান্ত বানচাল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সোচ্চার থাকলে ও তুহিন এর বিষয়ে প্রশাসন কেন নিরব। অনতিবিলম্বে শামসুজ্জামান তুহিনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে ঝিনাইদহ, শৈলকূপা ও ইবি এলাকায় বড় ধরনের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]