খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

থানায় বসে টাকার বিনিময়ে ফয়সালা করলেন ওসি,এরপর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মামলার অভিযোগ

রাব্বি রাশেদ পলাশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
থানায় বসে টাকার বিনিময়ে ফয়সালা করলেন ওসি,এরপর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মামলার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় বসে অর্থ লেনদেন এবং পরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমারের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. রহমত আলী ওরফে শামীম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেছেন, একটি মামলায় চাপ সৃষ্টি করতেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শামীম একটি জমি কেনার পর জমিটির একাংশে বিপ্লব মিয়া ও তার পরিবারকে বসবাসের সুযোগ দেন। পরবর্তীতে জমিটি প্রয়োজন হওয়ায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বললে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েক দফা বৈঠকের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী থানায় বৈঠক হয়।
শামীমের অভিযোগ, ওই বৈঠকে ওসি নয়ন কুমার সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, সদস্য সচিব আবু হানিফা, যুগ্ম আহ্বায়ক যোবাইদুল ইসলাম সুইট, উলিপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদুল হক নয়নসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
শামীম দাবি করেন, জমির বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এর আগে ওসি তার কাছ থেকে চার কিস্তিতে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন। তার ভাষ্য, কাগজপত্র দেখে ওসি জমিটি উদ্ধারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিপ্লব মিয়াকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মোট ৩ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে বৈঠক চলাকালে ওসির হাতে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন শামীম। বাকি ২ লাখ টাকা ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল।
চিলমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক যোবাইদুল ইসলাম সুইট বলেন, “থানায় মিটিংয়ের পর মানবিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হয়, শামীম বিপ্লব মিয়াকে বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা দেবেন। কথা অনুযায়ী শামীম ১ লাখ টাকা ওসির হাতে দেন। আমি ওই ১ লাখ টাকা নিজের হাতে বিপ্লবকে বুঝিয়ে দিই। বাকি ২ লাখ টাকা ২৮ তারিখে বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ২৬ তারিখে অগ্নিসংযোগ ও গর্ভের সন্তান হারানোর অভিযোগ করেন বিপ্লব মিয়া।”
শামীমের অভিযোগ, সমঝোতা অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিপ্লব মিয়া ও তার পরিবারের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও এর একদিন আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে বিপ্লবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে বিপ্লবের স্ত্রীকে মারধর, হাত-পা বেঁধে রাখা ও পরনের কাপড় নষ্ট করার অভিযোগও ওঠে।
শামীম দাবি করেন, এসব ঘটনায় তার লোকজন জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাকে ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে অগ্নিসংযোগ বা হামলার সঙ্গে তিনি কিংবা তার পরিবারের কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন শামীম।
তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় থানায় বসে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ এবং এরপর প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে শামীমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিলমারী থানার ওসি নয়ন কুমার। তিনি বলেন, “এখানে টাকা-পয়সা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। তারা একটি মামলায় পড়েছে। আমাকে প্রেসার ক্রিয়েট করার জন্যই এ ধরনের কথা বলছে।”
মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, বিপ্লবের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে মামলা রুজু করার মতো তথ্য পাওয়ায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শামীমের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিপ্লব মিয়া বলেন, “শামীম যদি আইনগতভাবে জমিটি পেয়ে থাকে, তাহলে সে জমি নেবে—এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার বাড়িতে কয়েকবার হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার পরিবারের ওপরও নির্যাতন করা হয়েছে। এতে আমার স্ত্রী গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন বলে আমি অভিযোগ করছি। এসব অত্যাচার ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি পিপিএম বলেন, “চিলমারী থানার নয়ন কুমারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস