খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৩ সেনা হত্যার দায়ে নিদাল হাসানের মৃত্যুদন্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
১৩ সেনা হত্যার দায়ে নিদাল হাসানের মৃত্যুদন্ড

ঢাকার ডাক আন্তর্জাতিক:  ফোর্ট হুডে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে পেন্টাগন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে এটিই হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড।মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব।

২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালান তৎকালীন সেনা মেজর নিদাল হাসান। এতে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনা নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। ওই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধের বাইরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক হাসান ২০১৩ সালের সামরিক আদালতে নিজেই হামলাকারী হিসেবে স্বীকার করেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানে মুসলিম ও তালেবানদের রক্ষার জন্য তিনি এ হামলা চালিয়েছিলেন। বর্তমানে হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার বন্দির একজন। সামরিক আইনে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি আপিল প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বিরল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

রাজ্য পর্যায়ে অবশ্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইডাহো, মিসিসিপি, ওকলাহোমা ও ইউটা। গত বছর সাউথ ক্যারোলাইনায় ফায়ারিং স্কোয়াডে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মৃত্যুদণ্ড রাজ্য পর্যায়ে কার্যকর হলেও কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীরও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। দেশটির ২৭টি অঙ্গরাজ্যে এখনো মৃত্যুদণ্ড আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন কেন্দ্রীয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে মৃত্যুদণ্ডকে ‘সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও প্রাণঘাতী সহিংসতার’ জন্য শাস্তি এবং তা প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস