খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন

ঢাকার ডাক আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন  ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের’ জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমি পুরস্কারটি ঘোষণা করে।সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইংগ্রিড কার্লবার্গ বলেন, একাডেমি যখন কারসনকে পুরস্কার জয়ের খবর জানাতে যোগাযোগ করে, তখন তিনি আইসল্যান্ডে ‘বাতাসের শব্দ শুনছিলেন’।

টরন্টোতে জন্ম নেওয়া ৭৬ বছর বয়সী কারসন তার সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও কাহিনি ব্যবহার করেন, যেখানে প্রায়ই কবিতা, প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ দেখা যায়।তার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’, যেখানে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যে আকাঙ্ক্ষার আনন্দ ও বেদনা তুলে ধরা হয়েছে; পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’; কবিতা ও গদ্যের সংকলন ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’, যা ২০০১ সালে কবিতার জন্য কানাডার গ্রিফিন পুরস্কার জিতেছিল; এবং ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’, যেখানে মেরিলিন মনরো ও ট্রয়ের হেলেনের তুলনা করা হয়েছে।

কারসন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের বেশ কিছু রচনাও অনুবাদ করেছেন, যেগুলোকে সুইডিশ একাডেমির মতে ‘নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।কারসন উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন। তিনি আইসল্যান্ডেও বসবাস করেছেন, যেখানে তিনি ও তার স্বামী রবার্ট কারি ২০২২ সালে নাগরিকত্ব পান।

গত বছর হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তার পরাবাস্তব ও নৈরাজ্যবাদী উপন্যাসগুলোতে বিষণ্ন বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তীক্ষ্ণ রসবোধের মিশ্রণ রয়েছে।এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)।

 

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস