মনোহরদীতে দুই হাসপাতালে অভিযান : ৭০ হাজার টাকা জরিমানা
নরসিংদীর মনোহরদীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ সংরক্ষণের অভিযোগে দুই বেসরকারি হাসপাতালকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে হাসপাতাল দুটিতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মনোহরদী পৌর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সজিব মিয়া।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর এলাকার লাইফ কেয়ার হাসপাতাল ও রাজিব প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় হাসপাতাল দুটির ফার্মেসি, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে সংশ্লিষ্ট ওষুধ জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে রাজিব প্রাইভেট হাসপাতালের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেখান থেকেও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান চলাকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, প্যাথলজি বিভাগের পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক করা এবং ওষুধ সংরক্ষণে সরকারি বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতাল দুটির কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে সেবার মান উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়।
মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নরসিংদী জেলা ঔষধ প্রশাসনের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুম মনিরা।
অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সজিব মিয়া বলেন, “জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। তাই এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।



আপনার মতামত লিখুন