খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চীনের হেংঝৌ শহরে বন্যায় খামার থেকে লোকালয়ে ৯০০ সাপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
চীনের হেংঝৌ শহরে বন্যায় খামার থেকে লোকালয়ে ৯০০ সাপ

ঢাকার ডাক আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের হেংঝৌ শহরে বন্যায় ভেসে গেছে সাপের খামার, লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ৯০০ সাপ তারা গ্রামবাসীকে এসব সাপ থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করছে। একই সঙ্গে সাপ ধরার লোক মোতায়েন, সাপের বিষের প্রতিষেধকের মজুত বাড়ানো এবং সাপের কামড়ে আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে তা সামাল দিতে হাসপাতালের কর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নাননিং শহরের হেংঝৌতে ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে লিউলান গ্রাম। একটি জনপদ শত শত সাপের দখলে। কিন্তু চীনের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ মানুষের শহর হেংঝৌতে বন্যার পানি সেই ভয়াবহ দৃশ্যকে বাস্তবে পরিণত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন মেসাক আঘাত হানার পর সৃষ্ট বন্যায় সাপের খামার ভেসে গিয়ে প্রায় ৯০০টি সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেক সাপই বিষধর। এ পর্যন্ত বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।সাপের কামড়ে একজন নারী মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে একটি কোবরা কামড়েছিল। সাপটি সম্ভবত বন্যায় প্লাবিত এলাকার কোনো খামার থেকে ভেসে এসেছিল।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন।উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সাপগুলো বন্যার পানির ওপর মাথা উঁচু করে রাস্তায় সাঁতার কাটছে।

শুধু সাপই নয়, আরও অনেক প্রাণীও খাঁচা থেকে বেরিয়ে গেছে। অঞ্চলটির একটি চিড়িয়াখানা প্লাবিত হওয়ার পর দুটি জেব্রা, একটি কুঁজওয়ালা গরু, তিনটি ক্ষুদ্রাকৃতির ঘোড়া, দুটি গাধাসহ আরও কয়েকটি প্রাণী পালিয়ে যায়।ব্যক্তিমালিকানাধীন গুইগাং চিড়িয়াখানা বুধবার রাতে জরুরি সতর্কতা জারি করে জানায়, পালিয়ে যাওয়া প্রাণীদের মধ্যে উটপাখি, ইমু ও র‌্যাকুন রয়েছে। ভয় পেলে এসব প্রাণী আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

প্রাণীগুলোকে কোথাও দেখা গেলে তা জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হংশিং নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিড়িয়াখানার মালিক ইন ফেইফেই বলেন, বন্যার পানি বাড়তে শুরু করলে কর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হিংস্র প্রাণীদের খাঁচা নিরাপদে বন্ধ করেন। তবে তিনটি সিংহ ডুবে মারা যায়। বন্যার সময় হিংস্র প্রাণীদের পালিয়ে গিয়ে জননিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে দেওয়া যেত না।

চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শাংইউ নিউজ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ১৬ হাজারের বেশি শূকরও ভেসে গেছে।হেংঝৌ গুয়াংজি অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। তুলনামূলক সমতল এই শহরটি পাহাড়বেষ্টিত এবং এর আশপাশে ৬৬০টিরও বেশি নদী রয়েছে।শহরটি চীনের ‘জুঁই ফুলের রাজধানী’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। প্রায় ৫০০ বছর ধরে এখানে চা তৈরিতে ব্যবহৃত সুগন্ধি জুঁই ফুলের চাষ হয়ে আসছে।

তবে অঞ্চলটি শুধু চায়ের জন্যই বিখ্যাত নয়। গত কয়েক দশকে হেংঝৌ এবং পুরো গুয়াংসি অঞ্চল সাপের প্রজননের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।ভিয়েতনাম সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে ১০০টিরও বেশি প্রজাতির সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। স্থানীয়রা সাপের মাংসকে পুষ্টিকর খাবার মনে করেন এবং খাদ্যের জন্য সাপ ধরার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে।

গুয়াংজি সরকারের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম গুয়াংসি ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল নাগাদ এ অঞ্চলে প্রায় দুই কোটি সাপ ছিল এবং ১৪ হাজারের বেশি সাপের প্রজনন খামার গড়ে উঠেছিল।বর্তমানে অধিকাংশ সাপ ওষুধ ও জৈব-চিকিৎসাবিষয়ক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রজনন করা হয়।এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পালন করা হয় কোবরা ও কমন র‌্যাট সাপ। কমন র‌্যাট সাপ বিষহীন হলেও কোবরার কামড় প্রাণঘাতী হতে পারে।

হেংঝৌর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প হিসেবে পরিচিত সাপের প্রজনন এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য বড় ধরনের সংকটে পরিণত হয়েছে। হেংঝৌর একটি বেসামরিক সাপ ধরার দলের সদস্য ঝু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেইজিং নিউজকে জানান, তাদের দলটি সাত থেকে আট সদস্যের। তারা টানা দুই দিন কাজ করেছে। এ সময় তারা মোট দুই হাজার থেকে তিন হাজার সাপ ধরেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল র‌্যাট সাপ। এই সংখ্যা আগে পালিয়ে যাওয়া সাপের যে হিসাব দেওয়া হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি।

ঝু বলেন, বন্যার পর সাপ সাধারণত বাড়ির কোণা বা অন্য কোনো আড়ালযুক্ত জায়গায় আশ্রয় নেয়। গ্রামবাসীরা সাপ দেখলে তাদের খবর দেন। এরপর ধরা সাপগুলো বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সেগুলো আবার বনে ছেড়ে দেওয়া যায়।দুই দিনে আমরা দুই থেকে তিন হাজার সাপ ধরেছি। বলতে গেলে সবই ধরে ফেলেছি।

গ্রামবাসীরা বেইজিং নিউজকে জানান, সাপের কামড়ে মারা যাওয়া নারীকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দ্রুত কোথাও নেওয়া যায়নি। এর মধ্যেই বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সরকার বুধবার বাসিন্দাদের জন্য নির্দেশনা জারি করে। এতে রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং ঘাসে ভরা জায়গা ও পুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ বন্যার পানি থেকে আশ্রয় ও খাবারের খোঁজে সাপগুলো এসব স্থানে আসতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বেশির ভাগ সাপ ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পছন্দ করে এবং বিনা উসকানিতে সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না।তীব্র গন্ধযুক্ত পদার্থ সাপ দূরে রাখে। তাই বাড়ির প্রবেশপথে সাপ প্রতিরোধক গুঁড়া ছিটিয়ে রাখা যেতে পারে।বাইরে গেলে যেখানে সাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে লাঠি দিয়ে ঝোপঝাড়ে আঘাত করে আশপাশে থাকা সাপ সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।’

সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাপের বিষের প্রতিষেধক মজুত রয়েছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সময়মতো প্রতিষেধক দিতে হবে।

বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও শত শত সাপ আর কতদিন মানুষের জন্য হুমকি হয়ে থাকবে, তা এখনও অনিশ্চিত। একই সঙ্গে ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাপ ধরা সম্ভব হবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।