খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাইয়্যেদুশ শুহাদা জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) : সৈয়দ ইরফানুল হক

চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সাইয়্যেদুশ শুহাদা জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) : সৈয়দ ইরফানুল হক

নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেমে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, কারবালা কেবল একটি দুঃখগাঁথা বা কান্নার ইতিহাস নয়। কারবালা হলো ইসলামকে পুনর্জীবিত করার এক অনন্য মহাকাব্য। সাইয়্যেদুশ শুহাদা জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালার তপ্ত বালুচরে নিজের এবং আহলে বাইতের পবিত্র রক্ত দিয়ে ইসলামের মূল স্তম্ভ ন্যায়, সত্য এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যখন খেলাফতের পবিত্র আদর্শকে কলুষিত করে রাজতন্ত্র ও স্বৈরাচার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন ইমাম হোসাইন আপোষ করেননি। রোববার ( ১২ জুলাই ) রাতে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) এবং ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম মাহফিল অনুষ্ঠনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী কারবালার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ইমাম হোসাইন শিখিয়েছেন বাতিলের শক্তি যতই বিপুল হোক না কেন, হকের পক্ষে অটল থাকাই মুমিনের আসল পরিচয়। মাইজভাণ্ডারী দর্শনের সাথে কারবালার শিক্ষার নিবিড় যোগসূত্র বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদুল্লাহ মাইজভাণ্ডারী যে তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারিয়া প্রবর্তন করেছেন, তার মূল ভিত্তি হলো প্রেম, বিশ্ব মানবতা এবং আহলে বাইতের প্রতি অবিচল ভালোবাসা।
আমাদের এই সিলসিলার মূল শিক্ষা হলো নফস বা ভেতরের কুপবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করা। কারবালার বাহ্যিক জিহাদ আর মাইজভাণ্ডারী দর্শনের আভ্যন্তরীণ আত্মশুদ্ধির জিহাদ আসলে একই সূত্রে গাঁথা; তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্যের ওপর অবিচল থাকা।

 

এসময় তিনি আরও বলেন, আজকের আধুনিক পৃথিবীতে যখন পরমতসহিষ্ণুতার অভাব, হিংসা-বিদ্বেষ, আধ্যাত্মিক শূন্যতা গ্রাস করছে, তখন কারবালার শিক্ষা ও ইমাম হোসাইন-এর চরিত্র আমাদের সবচেয়ে বড় পাথেয়। অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো, মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার শিক্ষাই আমাদের আজকের মাহফিল থেকে গ্রহণ করতে হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) বিশ্বব্যাপী এই সুমহান বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছে। এই মাহফিল প্রমাণ করে, দূরত্বের দেয়াল ভেঙে আহলে বাইতের ভালোবাসা আমাদের সবাইকে এক কাতারে শামিল করতে পারে।

 

মাহফিলে বিশ্বের ৫টি দেশ থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক স্কলাররা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন-ভারত থেকে খানকায়ে মোনয়েমীয়ার (পাটনা) সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা প্রফেসর ড. শাহ সৈয়দ শামীমুদ্দীন আহমদ মোনয়েমী এবং নাগপুরের আল জামেয়াতুর রজবীয়া দারুল উলুম আমজাদীয়ার শায়খুল হাদিস হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুফতী ফয়েজ আহমদ মিসবাহী, ইসলামিক ফোরাম অব কানাডার প্রেসিডেন্ট হযরতুলহাজ্ব আল্লামা শায়খ ফয়সাল হামিদ আবদুর রাজ্জাক, পাকিস্তান থেকে দরবারে মহরা শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা পীর মুজতবা ফারুক গুল বাদশা, শ্রীলঙ্কা থেকে আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার হযরতুলহাজ্ব আল্লামা হাফিজ এহসান ইকবাল কাদেরী এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইমাম আহমদ রেজা অ্যাডুকেশনাল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুসা রেজা কাদেরী।

 

মাহফিলের শেষে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম, রাহনুমায়ে শরীয়াত ও তরীকত আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)। অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই মাহফিলে দেশ-বিদেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার অনুসারীরা যুক্ত হয়ে এই আয়োজনের অংশীদার হন।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।