সোনাইমুড়ীতে আসামী ফয়েজকে গ্রেফতারের দাবীতে মানব বন্ধন
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার চাঞ্চল্যকর প্রবাসী রাকিবের আত্ন হত্যা মামলার আসামী প্রেমিক নাফি আহম্মেদ ফয়েজকে (২৮) দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির দাবীতে ও স্ত্রী মিমের (২২) দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে মানব বন্ধন করেছে এলাকাবাসী ।
সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড ভানুয়াই গ্রামের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ভুঁইয়া মঞ্জিলে নিজ বাসভবনের দোতালায় নিজ শয়ন কক্ষে বন্ধু ফয়েজের সাথে স্ত্রী মিমের বিবাহ বহির্ভুত অনৈতিক সম্পর্কের (পরকীয়া)সূত্র ধরে গত ১৩ জুলাই রাকিব আত্নহত্যা করে বলে রাকিবের বোন সুইটি ( ৩৪) পিতা মৃত বাবলু সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করে । মামলা নং – ১৩ । ফৌজদারী কার্য্যবিধি
১৮৯৮ ধারা ১৫৪ অনুসারে ৩০৬/৩৪ দন্ডবিধি রুজু করা হয় ।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় ,৬ জুলাই নাহিদুল ইসলাম রাকিব বিদেশ থেকে দেশে আসে । ৭ জুলাই স্ত্রী মিমের জষ্মদিন পালন করা হয় । ৮ জুলাই মিম রাকিবের মায়ের প্রাপ্ত সম্পত্তি দলিল করে নেয় । এ দিনি বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা , স্বর্নালংকার ও ফয়েজের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে রাকিবের সাথে মিমের ঝগড়া হয় ।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে মিম বলে রাকিব তুই মরে গিয়ে আমার পথ সহজ করে দে । পরিস্থিতি খারাপ হলে মিম তার ৬ বছরের মেয়ে ও ৪ বছরের ছেলেকে নিয়ে একি এলাকার পাসপোর্ট সোহাগের বাসায় বসবাসরত বড় বোন মুন্নির বাসায় উঠে । ১৪ জুলাই মিম তার মাকে ও সন্তানদেরকে সাথে নিয়ে রাকিবের বাসায় আসে এবং দরজা খোলার জন্য রাকিবকে ডাকাডাকি করে । কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় মিম পাশের বাহার আবু ছাযেদ পিতা -আবুল কালামকে ডাকে এবং তাকে দিয়ে দ্বীতল ভবনের সামনের প্রাচীর বেয়ে দেখতে পায় রাকিব নিজ রুমে হিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে । পরে মিম দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ।
ইতিমধ্যে বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে । রাকিবের ভাবি নিচতলায় থাকেন । তিনি ততোক্ষনে আত্নীয় স্বজন সবাইকে ফোনে বিষয়টি জানান । বাড়ীর পাশেই থানা । খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং লাশ পোষ্ট মর্টামের জন্য মর্গে পাঠায় । ১৩ জুলাই দুপুর ৩ টা থেকে ১৪ জুলাই রাত ৯ টার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ মামলাতেই উল্লেখ করলেও নিহত রাকিবের ফাঁস লাগানো ছবি দেখে মনে হচ্ছে , ১০জুলাই থেকে ১২ মালিকের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে । তা না হলে তার গলার চামড়া খসে যাবে কেন ? আর রক্ত বের হবে কেন ? রাকিবেরা ২ ভাই , ১ বোন । বড় ভাইও বিদেশে থাকে । রাকিব স্ত্রী মিমকে প্রেম করে বিয়ে করেছিলো । মিমের এমন কোনো সখ নেই যা রাকিব পূরন করেনি । রাকিবের পুরো ঘরটা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । ফয়েজ ছিলো রাকিবের বন্ধু । সে সুবাদে রাকিবের বাসায় ফয়েজের আনাগোনা ছিলো এবং সেই থেকেই ফয়েজ – মিমের সম্পর্ক গড়ে উঠে । তাদের দু জনের মোবাইলে ভিডিও করা অনেক অনৈতিক দৃশ্য ধারন করা ছিলো । তা ছাড়া রাকিব নিজেও সিসি ফুটেজের মাধ্যমে বিদেশ থেকে কিছু দৃশ্য দেখে ।
রাকিব ফয়েজকে মিমের পথ থেকে সরে যেতে বলে । ফয়েজ ১০ লাখ টাকা দাবি করে । রাকিব ফয়েজকে ২ লাখ টাকা স্ত্রী মিমের মাধ্যমে দেয় । কিন্ত এতেও কাজ না হওয়ায় রাকিব বিদেশ থেকে ফিরে আসে । রাকিবের বাড়ীর অদূরে ওহাব কোম্পানীর বাসায় ভাড়া থাকে । পেশাগতভাবে সে একজন রাজনৈতিক দলীয় ক্যাডার । তার পিতার নাম কবির মজুমদার মাসুদ ।
রাকিব আত্নহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে । বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্তের জন্য হয়েছে গ্রেফতার করে ফয়েজ ও মিমকে রিমান্ডে নিলেই মূল তথ্য বের হয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী দাবী করছে ।



আপনার মতামত লিখুন