খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

একটি সুস্থ সমাজ গঠনের চিন্তা শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকেই : জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
একটি সুস্থ সমাজ গঠনের চিন্তা শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকেই : জেলা প্রশাসক

মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে না তুললে শুধু চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ যখন শুধু নিজের নয়, অন্যের কষ্টও অনুভব করতে শেখে, তখনই সে প্রকৃত মানুষে পরিণত হয়। সমাজে অপরাধ, মাদকাসক্তি ও নানা রোগব্যাধি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র সব পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই। মঙ্গলবার বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে লিভার কেয়ার সোসাইটির আয়োজনে

‘হেপাটাইটিস: আসুন, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, একটি সুস্থ সমাজ গঠনের চিন্তা শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকেই। একজন মা গর্ভধারণের সময় থেকে একটি শিশুর বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার ও সমাজের অবহেলার কারণেই অনেক তরুণ ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় শুধু অপরাধই বাড়াচ্ছে না, বিভিন্ন জটিল রোগের বিস্তারেও ভূমিকা রাখছে। ‘মানুষ যখন নিজের ব্যথা বোঝে, তখন সে জীবিত। আর যখন অন্যের ব্যথা বোঝে, তখন সে প্রকৃত মানুষ।’ সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি যদি নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও পালন করেন, তাহলে অপরাধ, মাদকাসক্তি ও সামাজিক সংকট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

 

জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবীতে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো সম্পদ রয়েছে, কিন্তু মানুষের লোভ মেটানোর মতো সম্পদ নেই। তাই দায়িত্বশীলতা, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার কোনো বিকল্প নেই। উচ্চ শিক্ষা ও পেশাগত সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বড় বড় ডিগ্রি আছে। কিন্তু যদি সেই শিক্ষার প্রভাব সমাজে না পড়ে, যদি অপরাধ, মাদকাসক্তি কিংবা রোগীর সংখ্যা না কমে, তাহলে সেই ডিগ্রির মূল্য কোথায়?’ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হবে। স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিদিন লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ তাঁর কাছে সহায়তার জন্য আসেন। আবেদনকারীদের বড় একটি অংশ কিডনি রোগে আক্রান্ত। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সাম্প্রতিক জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, গত শনিবার চট্টগ্রাম জেলায় ৬ হাজার ২০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে পরিচালিত অভিযানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ থেকে ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এসব বর্জ্য জমে ছিল। শুধু বাইরের পরিবেশ নয়, মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালন করছি কি না, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করি না। বাইরে আলোকিত করলেই হবে না, ভেতরটাও আলোকিত হতে হবে।’ আগামী প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্বও বর্তমান প্রজন্মের। প্রয়োজনে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে (‘আউট অব দ্য বক্স’) কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। লিভার কেয়ার সোসাইটির কার্যক্রমের প্রশংসা করে ডিসি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস ও লিভারের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের প্রধান ও লিভার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি উপস্থাপনায় বলেন, দেশে আনুমানিক এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিবছর ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ রোগে মারা যান। আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিজেদের রোগ সম্পর্কে জানেন না। অথচ লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসই প্রধান কারণ।

 

আলোচনা শেষে উপস্থিত রোগীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে চিকিৎসকেরা হেপাটাইটিস বি ও সি শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেন। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও লিভার কেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. তারেক শামস। এতে চিকিৎসক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।