খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

৫০ বছর চার্জ থাকবে এই ব্যাটারিতে

প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
৫০ বছর চার্জ থাকবে এই ব্যাটারিতে

বেটাভোল্ট নামে এক চীনা কোম্পানি একটি নতুন নিউক্লিয়ার ব্যাটারি তৈরী করেছে যা চার্জ করা ছাড়াই ফোনকে ৫০ বছর পর্যন্ত চালাতে পারবে। উক্ত কোম্পানি দাবি করছে এই মিনিয়েচার এটমিক এনার্জি ব্যাটারি যা কিনা একটি কয়েনের চেয়ে ছোট। এই কম্প্যাক্ট ব্যাটারিতে ৬৯ টি নিউক্লিয়ার আইসোটোপ রয়েছে যা ১০০ মাইক্রোওয়াট জেনারেট করতে পারে ও ৩ ভোল্ট এর ইলেক্ট্রিসিটি ভোল্টেজ প্রদান করবে। চলুন জানি ব্যাটারি প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে চলা এই অসাধারণ প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত।

ব্যাটারিটি এখনো পাইলট টেস্টিং পর্যায়ে রয়েছে। তবে বেটাভোল্ট এর পরিকল্পনা হলো ফোন ও ড্রোন এর পাশাপাশি এরোস্পেস ইকুইপমেন্ট, এআই, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, এডভান্সড সেন্সর, ও মাইক্রো-রোবোটেও এই ব্যাটারি ব্যবহার করা। বেইজিং-ভিত্তিক কোম্পানিটি এই ব্যাটারি তৈরীতে পেসমেকার ও স্যাটেলাইট এর মত ডিভাইস থেকে ইন্সপিরেশন পেয়েছে বলে জানায়।

বেটাভোল্ট জানায় তারা ২০২৫ নাগাদ ১-ওয়াট ব্যাটারি প্রডিউস করতে চায়। যদিওবা এখনো অনেক লম্বা পথ পারি দেওয়া বাকি এই প্রযুক্তি গ্রাহকের হাতের আসার জন্য, কিন্তু কোম্পানিটি দাবি করছে তারা অনেক ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান সাইন্টিফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট ও এন্টারপ্রাইজ থেকে এগিয়ে আছে গবেষণার দিক দিয়ে।

নিউক্লিয়ার ব্যাটারি: ছোট কিন্তু শক্তিশালী

ইলেকট্রিক পণ্যের জগতে বিপ্লব নিয়ে আসার মত ক্ষমতা রাখে এই নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তি, যার ফলে চার্জার বা পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংক এর মত এক্সেসরিজের প্রয়োজনই হবেনা। এই ব্যাটারির ক্যাপাসিটি ও জীবনকালে চার্জ দিয়ে চলা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে অনেক ব্যাটারি অধিক তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসলে কিংবা সামান্য ড্যামেজ হয়ে গেলে অকেজো হয়ে যায়। বেটাভোল্ট জানায় তাদের BV100 নিউক্লিয়ার ব্যাটারির ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো সমস্যাই নেই, এটি পাংচার হয়ে গেলে কিংবা গানশট এর সংস্পর্শে আসলেও আগুন ধরবেনা কিংবা বিস্ফরিত হবেনা।

এই আনলিমিটেড শক্তি দ্বারা কোনো ড্রোন অবিরত চলতে পারবে, ফোন ইচ্ছামত ব্যবহার করা যাবে চার্জ ফুরোনোর চিন্তা ছাড়াই, ইলেকট্রিক কার রিচার্জ এর প্রয়োজন হবেনা। বর্তমানে পারমাণবিক বা নিউক্লিয়ার ব্যাটারি মহাকাশযান, পানির নিচের সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক স্টেশনের পাশাপাশি মার্স রোভারের মতো স্পেসক্রাফটে ব্যবহৃত হয়, তবে সেগুলি বড়, ভারী এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, সেইসাথে ব্যয়বহুলও। বেটাভোল্ট জানিয়েছে তাদের ব্যাটারি অন্যভাবে বানানো হয়েছে।

বেটাভোল্ট এর রেডিওএকটিভ ব্যাটারি যেভাবে কাজ করে

নিকেল-৬৩ নামে একটি রেডিওএকটিভ উপাদান ব্যবহার করে বেটাভোল্ট এর বিজ্ঞানীগণ এই ব্যাটারি তৈরি করেছেন। এই উপাদানকে এনার্জি সোর্স হিসেবে ও ডায়মন্ড সেমিকন্ডাক্টরকে এনার্জি কনভার্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বেটাভোল্ট এর ভাষ্যমতে এর এটমিক এনার্জি ব্যাটারির সুবিধা হলো ওজনে হালকা হওয়া, লম্বা সময় ধরে ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করা ও হাই এনার্জি ডেনসিটি, ইত্যাদি। মজার ব্যাপার হলো এই ব্যাটারি মাইনাস ৬০ কিংবা ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও ঠিকঠাক কাজ করবে।

মডিউলার ডিজাইনের কল্যাণে একাধিক অ্যাটোমিক বেটারি একই ডিভাইসে ব্যবহার করা যাবে যার মাধ্যমে অধিক এনার্জি আউটপুট প্রদান করা সম্ভব হবে। এর ফলে অটোমেটিক টেকনোলজি কিংবা এর মত ক্ষেত্রগুলোতেও এর ব্যবহার সম্ভব হবে।

তবে সমস্যা যেখানে!

অধিকাংশ মানুষ তাদের পকেটে নিউক্লিয়ার ম্যাটেরিয়াল অবশ্যই বহন করতে চাইবে না। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে এইচবিওর চেরনোবিল সিরিজটি দেখেছেন তারা নিউক্লিয়ার এক্সপ্লোশন এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ভালোভাবেই আন্দাজ করে থাকতে পারবেন। তবে বেটাভোল্ট রেডিয়েশনের ব্যাপারে জানিয়েছে তাদের তৈরি এই ব্যাটারি কোন ধরনের বাহ্যিক রেডিয়েশন নির্গমন করে না এবং মানুষের শরীরের মধ্যে ব্যবহৃত হওয়া পেসমেকার এর মত মেডিকেল ডিভাইসেও ব্যবহারের উপযোগী।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।