খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

২৫ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ মনিরুজ্জামান
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
২৫ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুর মহানগরীর হাড়িনাল উত্তরপাড়ায় ২৫টি পরিবার ও মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অপচেষ্টা, চাঁদা দাবি, অতর্কিত হামলা এবং ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
​শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় গাজীপুর মহানগরী সাংবাদিক পরিবার কল্যাণ পরিষদ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার মনসুর আহমেদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় নাছির উদ্দিন বিপ্লব, খাইরুল ইসলাম ও আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকার ২৫টি পরিবার এবং মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তাটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাস্তাটি ব্যবহারের বিনিময়ে অভিযুক্তরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে এবং এ নিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে স্থানীয়দের হয়রানি করছে।
​তিনি আরও জানান, গত ২৮ জুলাই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক যাতায়াতের রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে তারা সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মনসুর আহমেদ নিজে, বৃদ্ধ হেদায়েত উল্লাহ ও রোকেয়া মফিজ গুরুতর আহত হন। এসময় হামলাকারীরা মসজিদ নির্মাণের জন্য রক্ষিত ৭০ হাজার টাকাসহ নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।
​এ ঘটনায় গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্তদের তৎপরতা থামেনি; বরং তারা ভুক্তভোগীদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।