ডিমলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, পল্লী বিদ্যুতের সেবায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা
নীলফামারীর ডিমলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তবে এ পরিস্থিতির জন্য স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ডিমলা জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা।
দৈনিক ঢাকার ডাকের উপজেলা প্রতিনিধির সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে ডিমলা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আলম, ডিজিএম (অঃদাঃ) জানান, বর্তমানে লোডশেডিংয়ের মূল কারণ উৎপাদন ঘাটতি।
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না, তারা শুধু বিদ্যুৎ বিতরণ করে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা ট্রান্সমিশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়। উৎপাদন পর্যায় থেকেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না হলে বিতরণ পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়।
কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আলম, ডিজিএম (অঃদাঃ) এর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ঘাটতির কারণ হিসেবে তিনি গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং কয়লা সরবরাহে সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।
ফলে ডিমলার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রম।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট—সমস্যার মূল জায়গা স্থানীয় বিতরণ নয়, বরং উৎপাদন পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়া।
এখন গ্রাহকদের প্রশ্ন, কবে স্বাভাবিক হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ? আর কতদিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হবে ডিমলাবাসীকে?
দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।

আপনার মতামত লিখুন