‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান’ চাঁদপুর ফেমাস হাসপাতালে NICU নামে চলছে রমরমা বানিজ্য
একটি ছোট্ট হাত। সেই হাতেই হয়তো একদিন বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাঁটবে সন্তান—এমন স্বপ্নই দেখছিলেন বাবা ইয়াছিন। সেই স্বপ্ন নিয়েই উন্নত চিকিৎসার আশায় নবজাতক সন্তানকে ভর্তি করেছিলেন হাসপাতালের NICU-তে।
কিন্তু সেই ছোট্ট হাতের রং যখন ধীরে ধীরে কালচে হয়ে গেল, মুহূর্তেই যেন বদলে গেল পুরো পরিবারের পৃথিবী। আনন্দের জায়গা নিল আতঙ্ক, স্বস্তির জায়গায় কান্না। সন্তানের হাতের এমন অবস্থা দেখে এখন একটাই আকুতি বাবা ইয়াছিনের—‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান।’

চাঁদপুর শহরের ফেমাস হাসপাতালে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (NICU) সেবা নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন নবজাতকের বাবা ইয়াছিন।
পরিবারের দাবি, গতকাল উন্নত চিকিৎসার আশায় নবজাতক শিশুটিকে ফেমাস হাসপাতালের NICU-তে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, শিশুটির একটি হাতের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। ধীরে ধীরে হাতটি কালচে হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা।
শিশুটির বাবা ইয়াছিনের অভিযোগ, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুলকে জানানো হলেও তারা বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি।
পরিবারের সদস্যরা শিশুটির হাতের এমন অবস্থার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে এটি ক্যানোলা থেকে ইনফেকশন হতে পারে অথবা অ্যালার্জির কারণেও এমন হতে পারে বলে জানানো হয় বলে দ্বায় এড়িয়ে যান।

কিন্তু সন্তানের হাতের অবস্থা চোখের সামনে পরিবর্তন হতে দেখে কোনোভাবেই আশ্বস্ত হতে পারেননি বাবা-মা। সন্তানের চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে একপর্যায়ে শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান ইয়াছিন।
এরপর যেন মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবারের সব হিসাব।
যে সন্তানকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, সেই সন্তানের হাতের এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
একজন বাবার কাছে সন্তানের প্রতিটি আঙুল, প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি মুহূর্তই অমূল্য। সেই সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এনে যদি চোখের সামনে তার শরীরের এমন পরিবর্তন দেখতে হয়, তাহলে সেই অসহায়ত্ব কতটা গভীর—তা হয়তো শুধু একজন বাবা-মাই অনুভব করতে পারেন।
নবজাতকের বাবা ইয়াছিনের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুলের ভুল চিকিৎসার কারণেই তার সন্তানের হাতের এমন অবস্থা হয়েছে। তিনি তার সন্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
পরিবারটির আরও দাবি, ফেমাস হাসপাতালের NICU সেবা নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে নবজাতকের হাত কালচে হয়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ কী, এর পেছনে চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা, ক্যানোলা-সংক্রান্ত সমস্যা, অ্যালার্জি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো জানা যায়নি।
একটি শিশুর চিকিৎসা শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়; এটি চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা, চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ এবং আমাদের সামাজিক বিবেকেরও প্রশ্ন।
আইন ও নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক—প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগের ভিন্ন কোনো চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলে সেটিও স্পষ্ট করা হোক।
কারণ একজন বাবা যখন অসহায় হয়ে বলেন, ‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান’, তখন সেই আকুতিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
একটি নবজাতক পৃথিবীতে এসেছে—তার ভবিষ্যৎ এখনো শুরুই হয়নি। তার ছোট্ট হাতটি হয়তো একদিন বাবার আঙুল ধরে প্রথম হাঁটবে, মায়ের মুখ ছুঁয়ে হাসবে। সেই হাতের নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন শুধু পরিবার নয়—সচেতন মহল, চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং আইনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব হলো সত্য উদঘাটন করা।
পরিবারটির আবেদন —সত্যটা জানা, সন্তানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া



আপনার মতামত লিখুন