খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান’ চাঁদপুর ফেমাস হাসপাতালে NICU নামে চলছে রমরমা বানিজ্য

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান’ চাঁদপুর ফেমাস হাসপাতালে NICU নামে চলছে রমরমা বানিজ্য

একটি ছোট্ট হাত। সেই হাতেই হয়তো একদিন বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাঁটবে সন্তান—এমন স্বপ্নই দেখছিলেন বাবা ইয়াছিন। সেই স্বপ্ন নিয়েই উন্নত চিকিৎসার আশায় নবজাতক সন্তানকে ভর্তি করেছিলেন হাসপাতালের NICU-তে।

কিন্তু সেই ছোট্ট হাতের রং যখন ধীরে ধীরে কালচে হয়ে গেল, মুহূর্তেই যেন বদলে গেল পুরো পরিবারের পৃথিবী। আনন্দের জায়গা নিল আতঙ্ক, স্বস্তির জায়গায় কান্না। সন্তানের হাতের এমন অবস্থা দেখে এখন একটাই আকুতি বাবা ইয়াছিনের—‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান।’

চাঁদপুর শহরের ফেমাস হাসপাতালে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (NICU) সেবা নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন নবজাতকের বাবা ইয়াছিন।

পরিবারের দাবি, গতকাল উন্নত চিকিৎসার আশায় নবজাতক শিশুটিকে ফেমাস হাসপাতালের NICU-তে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, শিশুটির একটি হাতের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। ধীরে ধীরে হাতটি কালচে হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা।

শিশুটির বাবা ইয়াছিনের অভিযোগ, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুলকে জানানো হলেও  তারা বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটির হাতের এমন অবস্থার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে এটি ক্যানোলা থেকে ইনফেকশন হতে পারে অথবা অ্যালার্জির কারণেও এমন হতে পারে বলে জানানো হয় বলে দ্বায় এড়িয়ে যান।

কিন্তু সন্তানের হাতের অবস্থা চোখের সামনে পরিবর্তন হতে দেখে কোনোভাবেই আশ্বস্ত হতে পারেননি বাবা-মা। সন্তানের চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে একপর্যায়ে শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান ইয়াছিন।

এরপর যেন মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবারের সব হিসাব।

যে সন্তানকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, সেই সন্তানের হাতের এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

একজন বাবার কাছে সন্তানের প্রতিটি আঙুল, প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি মুহূর্তই অমূল্য। সেই সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এনে যদি চোখের সামনে তার শরীরের এমন পরিবর্তন দেখতে হয়, তাহলে সেই অসহায়ত্ব কতটা গভীর—তা হয়তো শুধু একজন বাবা-মাই অনুভব করতে পারেন।

নবজাতকের বাবা ইয়াছিনের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুলের ভুল চিকিৎসার কারণেই তার সন্তানের হাতের এমন অবস্থা হয়েছে। তিনি তার সন্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

পরিবারটির আরও দাবি, ফেমাস হাসপাতালের NICU সেবা নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে নবজাতকের হাত কালচে হয়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ কী, এর পেছনে চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা, ক্যানোলা-সংক্রান্ত সমস্যা, অ্যালার্জি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো জানা যায়নি।

একটি শিশুর চিকিৎসা শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়; এটি চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা, চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ এবং আমাদের সামাজিক বিবেকেরও প্রশ্ন।

আইন ও নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক—প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগের ভিন্ন কোনো চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলে সেটিও স্পষ্ট করা হোক।

কারণ একজন বাবা যখন অসহায় হয়ে বলেন, ‘আমার সন্তানের হাতটা বাঁচান’, তখন সেই আকুতিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

একটি নবজাতক পৃথিবীতে এসেছে—তার ভবিষ্যৎ এখনো শুরুই হয়নি। তার ছোট্ট হাতটি হয়তো একদিন বাবার আঙুল ধরে প্রথম হাঁটবে, মায়ের মুখ ছুঁয়ে হাসবে। সেই হাতের নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন শুধু পরিবার নয়—সচেতন মহল, চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং আইনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব হলো সত্য উদঘাটন করা।

পরিবারটির আবেদন —সত্যটা জানা, সন্তানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।