খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনে বাড়ছে গাদাগাদি, আসন সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনে বাড়ছে গাদাগাদি, আসন সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সঙ্গে শাটল ট্রেনের সম্পর্ক কেবল যাতায়াতের নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের স্মৃতি ও ক্যাম্পাসজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আশির দশক থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর হাসি-কান্না, বন্ধুত্ব, প্রেম-বিরহ আর সংগ্রামের সাক্ষী এই ট্রেন। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) শাটল ট্রেন। অথচ বিপুল এই শিক্ষার্থীসংখ্যার বিপরীতে ট্রেন মাত্র এক জোড়া। ফলে প্রতিদিনের যাত্রায় বাড়ছে গাদাগাদি, আসন সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়। এর সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতা ও নানান অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ঐতিহ্যের এই বাহনটি ক্রমেই হারাচ্ছে তার স্বকীয়তা।

 

 

অথচ সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি শাটলের সক্ষমতা। ফলে যে শাটল একসময় ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাণের স্পন্দন, সেটিই এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের ভোগান্তির আরেক নাম।
শিক্ষার্থী বাড়ছে, বাড়ছে না ট্রেনের সক্ষমতা
বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর নতুন বিভাগ ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি শাটল ট্রেনের বগি ও আসনসংখ্যা। বর্তমানে চবির দুটি শাটল ট্রেনের প্রতিটিতে ১০টি করে বগি রয়েছে। প্রতিটি বগিতে ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ জন হলেও ব্যস্ত সময়ে এর কয়েক গুণ শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে চবির ডেমু ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শাটল দুটির ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। বাড়তি যাত্রী সামলাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ঝুঁকি নিয়ে দরজার কাছে, সিঁড়িতে কিংবা বগির সংযোগস্থলে অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

 

শাটলে আসন সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন বহিরাগতদের নিয়মিত যাতায়াতের কথা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পরিবহন ব্যবস্থায় বহিরাগতদের উপস্থিতি আরও চাপ তৈরি করছে। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা আহমেদ বলেন, ‘বহিরাগতদের নিয়ে নানান সমস্যা। তারা আসার পরে আমাদের বসার জায়গা হয় না। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবেই মূলত এটা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি করলে আশা করি এই সমস্যা কিছুটা কমে আসবে। শুধু ভিড় নয়, শাটলের শিডিউল নিয়েও রয়েছে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করেও অনেক সময় ট্রেন না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা জরুরি কাজে সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সীমা আক্তার বলেন, ‘প্রতিনিয়ত শিডিউলের সমস্যা। আমরা স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে থাকি অনেক সময়। তারপরও দেখা যায় শাটল আসে না। ক্যান্টনমেন্টের ওখানে গেলে ইট ছুঁড়ে মারা হয়। কখন কে আহত হয় তার ঠিক নেই। এখন আমরা দেখছি বগি কমিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা শাটলে জায়গা পাই না, যেতে পারি না’।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাথর নিক্ষেপ, চুরি-ছিনতাই ও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির মতো ঘটনাগুলো শাটলযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে ঐতিহ্যের এই বাহনে যাতায়াতের আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে আতঙ্কও। শাটলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। বগির ফ্যান ও বাতিগুলো নিয়মিত কাজ না করার কারণে বিশেষ করে গরমের সময় অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশিক বলেন, ‘বগিতে যেসব ফ্যান ও লাইট আছে, সেগুলো মাঝে মাঝে চলে, মাঝে মাঝে চলেই না।

 

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘শাটল ট্রেনের চলমান সমস্যার সমাধানে আগামী মাসের মধ্যেই কিছু পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে। খুব শিগগিরই পুরো একটা কোচ আমরা পাব। আগামী তিন মাসের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি স্টেশন সিসিটিভির আওতায় আসবে। দুই পার্শ্ববর্তী যে বস্তি এবং যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে, সেগুলো পরিষ্কার করা হবে’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন শুধু একটি পরিবহন নয়; প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি হয়ে উঠেছে চবির পরিচয়ের অংশ। এই ট্রেনেই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, তৈরি হয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, লেখা হয়েছে ক্যাম্পাসজীবনের নানা গল্প। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন সক্ষমতা না বাড়া, আসন সংকট, অনিয়মিত শিডিউল, নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনা সেই ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা শাটলকে শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নয়, নিরাপদ, নিয়মিত ও সক্ষম গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলা হোক। প্রশাসনের প্রতিশ্রুত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে হয়তো আবারও শাটলের জানালায় ফিরবে স্বস্তির বাতাস, বগিতে ফিরবে যাত্রার আনন্দ। আর চবির হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে তাদের প্রাণের শাটল ফিরে পাবে তার হারানো জৌলুস।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।