খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভূল্লীতে জুট মিলের নোংরা পানিতে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত ভোগান্তিতে জনসাধারণ

মোঃ রাজু রানা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
ভূল্লীতে জুট মিলের নোংরা পানিতে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত ভোগান্তিতে জনসাধারণ

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লীতে সেলিম রেজা জুট মিলের নোংরা পানি নিয়মিত সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় একটি সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত ও খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনচালকরা। একই সঙ্গে সড়কটিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোর্ড অফিস বাজার থেকে গড়েয়া গামী সড়কের বোর্ড অফিস এলাকায় রাস্তার পাশে সেলিম রেজা জুট মিল অবস্থিত। মিলের নোংরা পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তা সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি চলাচলের ফলে সড়কের পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুট মিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় নোংরা পানি সড়কের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি সড়ক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আশপাশের কৃষিজমির ফসলও নোংরা পানি ও বর্জ্যের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় এক পথচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর দিয়ে নোংরা পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রাস্তা নষ্ট হয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।

আকাশ নামে এক অটোচালক বলেন, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হয়েছে। তার ওপর পানি জমে থাকায় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাতে এসব গর্ত সহজে দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

বাদশাহ নামে এক পথচারী বলেন, মিলের পানি নিয়মিত সড়কের ওপর দিয়ে যায়। এতে রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিদিন মানুষ ও যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান দরকার।

এ বিষয়ে সেলিম রেজা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইমরান হোসেন বলেন, মিলের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন অন্যদিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে ভবিষ্যতে সড়কের ওপর পানি পড়ার সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন তারা।

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারি সড়ক নষ্ট করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কের ওপর যাতে কোনোভাবেই জুট মিলের নোংরা পানি প্রবাহিত না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস