খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে পিচঢালাই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য,ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে পিচঢালাই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য,ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ডালাস রাস্তার মাটিকাটা মাঝুখান এলাকার পিচঢালাই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক,স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমতলা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত, ইট-সুরকি উঠে গেছে, জমে আছে হাঁটু সমান কাদা পানি। অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যান এই কাদা মাড়িয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি পাশে বিল ও জলাশয় থাকায় রাস্তাটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি হলেই বিলের পানি রাস্তায় উঠে যায়, তখন রাস্তা ও বিল একাকার হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। গাদাগাদি করে শ্রমিকবোঝাই পিকআপ ভ্যান কাদা ছিটিয়ে পার হচ্ছে। সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকরা পা দিয়ে ঠেলে ঠেলে গাড়ি পার করছেন। গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ, শিশুদের এই রাস্তা দিয়ে পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এটি এখন আর রাস্তা নয়, যেন দুঃখ-দুর্দশার আরেক নাম।
দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এই রাস্তায় চলাচলকারী এক পথচারী মোঃ রুবেল মিয়া বলেন,
আমি এই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় বছর চলাচল করি। এই রাস্তার গত তিন বছর যাবত এমন বেহাল দশা হয়ে গেছে। অফিস কর্মী অর্থাৎ গার্মেন্ট সেক্টরে যারা চলাচল করে, তাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই।
আরেকজন গার্মেন্টস শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন,এই রাস্তাটা খুবই খারাপ। আমরা খুব কষ্টে আছি। প্রতিদিন কাপড় নষ্ট হয়, দেরি হলে হাজিরা কাটা যায়। আমরা জীবন হাতে নিয়ে ফ্যাক্টরিতে যাই।
অটো চালক আল আমিন বলেন,এই রাস্তা দিয়ে খুব সমস্যা হয়। দেখেন এই গাড়ি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের দাবি, এই রাস্তাটা খুব দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হোক। একটা রোগী নিয়ে যেতেও ভয় লাগে, যদি উল্টে বিলে পড়ে যাই।
এলাকাবাসী গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমি গাজীপুর-১ আসনের এমপি মহোদয়ের কাছে আকুল অনুরোধ করছি, এই রাস্তাটার দিকে নজর দেওয়া হোক। এবং সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করছি, গ্রামের যে ছোট ছোট চলাচলের রাস্তাগুলো আছে, সেগুলোর দিকে একটু নজর দেওয়া হোক। এখানে অনেক শ্রমিক দুর্ভোগের শিকার হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন,আমতলা সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। মৌচাক ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা। হাজার হাজার শ্রমিক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এই দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি, আগামী কিছূদিনের মধ্যে এই রাস্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইনবলেন,মৌচাক ইউনিয়নের আমতলা সড়কের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। আমি আজই উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত ইটের সোলিং বা বালু ফেলে চলাচল উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাকসুদুন্নবী বলেন, মাটিকাটা মাজুখান আমতলা সড়কটি আমাদের তালিকাভুক্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবং ভারী যান চলাচল ও বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। এর জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই আমরা ঢালাই সহ পূর্ণ সংস্কার কাজ শুরু করবো। আপাতত জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে, আর কত শ্রমিক কাদায় পড়লে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস