খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজশাহীতে ৮৫ পূজামণ্ডপে রাসিকের ১৭ লাখ টাকা অনুদান প্রতিটি মণ্ডপে ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ, পূজায় ওয়াইফাই দেওয়ার ঘোষণা

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে ৮৫ পূজামণ্ডপে রাসিকের ১৭ লাখ টাকা অনুদান  প্রতিটি মণ্ডপে ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ, পূজায় ওয়াইফাই দেওয়ার ঘোষণা

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। প্রতিটি মণ্ডপে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৭ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মণ্ডপগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক তুলে দেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক বলেন,আমাদের সবার লক্ষ্য শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দুর্গাপূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পূজা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে রাসিকের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি।

তিনি আরও বলেন,আমরা রাজশাহীকে গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটির পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভায় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ ওয়াইফাইয়ের দাবি জানালে রাসিক প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ওয়াইফাই সংযোগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃএফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার মোতায়েন,স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মণ্ডপ ও বিসর্জন ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা,রাস্তাঘাট মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিসর্জন ঘাটে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল মোতায়েন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস