খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

যশোরে মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি, ছবি বিকৃত করে ছড়ানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
যশোরে মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি, ছবি বিকৃত করে ছড়ানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ

যশোরের অভয়নগরে চুরির মামলা তুলে নিতে এক নারীকে প্রাণনাশের হুমকি, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁর সন্তানদের ক্ষতি করার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে মহিউল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নারীর জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিরিনা বেগম (৩৭)।

ভুক্তভোগী শিরিনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ভাড়া বাসা থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ছয় ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মহিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি শিরিনার।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ছেলেকে নিয়ে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের ভাড়া বাসার সামনে মহিউল ইসলাম তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার পাশাপাশি তাঁর ছেলে-মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিরিনার দাবি, পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাধারণ ছবিকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওতে রূপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে সম্মানহানি করার ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, গত ৬ জুলাই ২০২৬ দুপুরে তাঁর ভাড়া বাসার শয়নকক্ষের তালা খুলে আলমারির লকার থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। এ ঘটনায় ৮ জুলাই অভয়নগর থানায় মামলা নম্বর ১২, ধারা ৩৮০ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিরিনা বেগমের দাবি, এসব হুমকি ও হয়রানির বিষয়ে অভয়নগর থানায় যোগাযোগ করেও তিনি কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলাটি অন্য কোনো তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, আমার ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিল এটা সত্য। তারা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। থানা পুলিশ আমাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আমি জামিনে আছি। ওই পরিবারকে কোন হুমকি ধামকি দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম নুরুজ্জামান’র নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে আসামিদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হুমকি-ধামকির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস