যশোরে মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি, ছবি বিকৃত করে ছড়ানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ
যশোরের অভয়নগরে চুরির মামলা তুলে নিতে এক নারীকে প্রাণনাশের হুমকি, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁর সন্তানদের ক্ষতি করার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে মহিউল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নারীর জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিরিনা বেগম (৩৭)।

ভুক্তভোগী শিরিনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ভাড়া বাসা থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ছয় ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মহিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি শিরিনার।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ছেলেকে নিয়ে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের ভাড়া বাসার সামনে মহিউল ইসলাম তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার পাশাপাশি তাঁর ছেলে-মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিরিনার দাবি, পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাধারণ ছবিকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওতে রূপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে সম্মানহানি করার ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, গত ৬ জুলাই ২০২৬ দুপুরে তাঁর ভাড়া বাসার শয়নকক্ষের তালা খুলে আলমারির লকার থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। এ ঘটনায় ৮ জুলাই অভয়নগর থানায় মামলা নম্বর ১২, ধারা ৩৮০ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিরিনা বেগমের দাবি, এসব হুমকি ও হয়রানির বিষয়ে অভয়নগর থানায় যোগাযোগ করেও তিনি কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলাটি অন্য কোনো তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, আমার ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিল এটা সত্য। তারা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। থানা পুলিশ আমাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আমি জামিনে আছি। ওই পরিবারকে কোন হুমকি ধামকি দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম নুরুজ্জামান’র নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে আসামিদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হুমকি-ধামকির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]