রাজশাহীতে ২২ গ্রামীণ নারীকে,গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬ প্রদান
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজিক্যাল লার্নিং সেন্টারে বরেন্দ্র অঞ্চলের ২২ জন লড়াকু গ্রামীণ নারীকে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬প্রদান করা হয়েছে।
এগ্রোইকোলজিক্যাল চর্চা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশি বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
বারসিক (BARCIK) ও গ্রীণ কোয়ালিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রীণ কোয়ালিশন পবা উপজেলা সভাপতি মোসাঃরহিমা বেগম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ গবেষক এবং গ্রীণ কোয়ালিশন রাজশাহী জেলার সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও গবেষক মোঃশহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃআতাউর রহমানসহ স্থানীয় কৃষক ও নারী সংগঠকবৃন্দ।
সম্মাননা পেলেন
শিল্পী বেগম, আয়েশা বেগম, মিনারা বেগম, পান্না বেগম, মাহমুদা বেগম, মর্জিনা বেগম, সেতারা বেগম, পানি মার্ডি, সুমি বেগম, পরি টুডু, চিচিলিয়া হাসদা, অঞ্জলি রানী, তিথি সরেন, মায়না বাস্কে, সাগরী রানী, সেলিনা বেগম, তাহমিনা বেগম, শাহানা বেগম, বিলকিস বেগম, রুবিনা খাতুন, জেসমিন বেগম ও মর্জিনা টুডু।
সম্মানিত নারীদের মধ্যে কেউ ৪৯ প্রজাতির বীজ সংরক্ষণ করছেন, কেউ ১৪ জাতের দেশি কলা সংরক্ষণ করছেন, কেউ ৬টি গ্রামের ১২০ জন নারীকে পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি করে দিয়েছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে তানোরের আদিবাসী কৃষাণী চিচিলিয়া হাসদা বলেন,পানি খরার সাথে লড়াই করে আমাদের বাঁচতে হয়। খরা সহনশীল ফসল চাষ করি, যাতে পানি কম লাগে।
পবা উপজেলার কৃষাণী জেসমিন বেগম বলেন,ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে আমি স্বাবলম্বী। বারসিকের সহায়তায় শিখেছি, এখন ইতালি থেকে এই কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডেকেছে।
বারসিকের গবেষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই সম্মাননার উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ নারীদের অদৃশ্য অবদানকে দৃশ্যমান করা এবং টেকসই কৃষিতে তাঁদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]