খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজশাহীতে ২২ গ্রামীণ নারীকে,গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬ প্রদান

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে ২২ গ্রামীণ নারীকে,গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬ প্রদান

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজিক্যাল লার্নিং সেন্টারে বরেন্দ্র অঞ্চলের ২২ জন লড়াকু গ্রামীণ নারীকে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬প্রদান করা হয়েছে।

এগ্রোইকোলজিক্যাল চর্চা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশি বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

বারসিক (BARCIK) ও গ্রীণ কোয়ালিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রীণ কোয়ালিশন পবা উপজেলা সভাপতি মোসাঃরহিমা বেগম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ গবেষক এবং গ্রীণ কোয়ালিশন রাজশাহী জেলার সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও গবেষক মোঃশহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃআতাউর রহমানসহ স্থানীয় কৃষক ও নারী সংগঠকবৃন্দ।

সম্মাননা পেলেন
শিল্পী বেগম, আয়েশা বেগম, মিনারা বেগম, পান্না বেগম, মাহমুদা বেগম, মর্জিনা বেগম, সেতারা বেগম, পানি মার্ডি, সুমি বেগম, পরি টুডু, চিচিলিয়া হাসদা, অঞ্জলি রানী, তিথি সরেন, মায়না বাস্কে, সাগরী রানী, সেলিনা বেগম, তাহমিনা বেগম, শাহানা বেগম, বিলকিস বেগম, রুবিনা খাতুন, জেসমিন বেগম ও মর্জিনা টুডু।

সম্মানিত নারীদের মধ্যে কেউ ৪৯ প্রজাতির বীজ সংরক্ষণ করছেন, কেউ ১৪ জাতের দেশি কলা সংরক্ষণ করছেন, কেউ ৬টি গ্রামের ১২০ জন নারীকে পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি করে দিয়েছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে তানোরের আদিবাসী কৃষাণী চিচিলিয়া হাসদা বলেন,পানি খরার সাথে লড়াই করে আমাদের বাঁচতে হয়। খরা সহনশীল ফসল চাষ করি, যাতে পানি কম লাগে।

পবা উপজেলার কৃষাণী জেসমিন বেগম বলেন,ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে আমি স্বাবলম্বী। বারসিকের সহায়তায় শিখেছি, এখন ইতালি থেকে এই কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডেকেছে।

বারসিকের গবেষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই সম্মাননার উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ নারীদের অদৃশ্য অবদানকে দৃশ্যমান করা এবং টেকসই কৃষিতে তাঁদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস