খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে পুরো জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেনি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:০২ অপরাহ্ণ
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে পুরো জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেনি

২০২৪ সালের (দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) জাতীয় নির্বাচনে পুরো জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (রওশনপন্থি) মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে গোটা জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেনি। জাতীয় পার্টির নাম নিয়ে নির্বাচন করেছে ২৬ জন সুযোগ সন্ধানী। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সব দল অংশগ্রহণ করেনি, ওই নির্বাচন আমরা যারা বর্জন করেছিলাম আজ এখানে তারাই সমবেত হয়েছি। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা একটি শক্তিশালী সুসংগঠিত জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন করতে চাই। অচিরেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা সেই নির্বাচনের অংশগ্রহণের জন্য এখন থেকে জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করতে থাকবো।

বুধবার (১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির (রওশনপন্থি) ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মহাসচিব বলেন, একদিন যারা এরশাদের নামে জিন্দাবাদ দিয়েছেন তারা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ নেই। কেউ জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করছেন, কিন্তু এরশাদের আদর্শ ধারণ করছেন না। তার ছবিও ব্যবহার করছেন না। কেউ কেউ জাতীয় পার্টির নামে দল পরিচালনা করছেন, কিন্তু নির্বাচনী ইশতেহার থেকে এরশাদের ছবি মুছে দিয়ে নির্বাচন করেছেন। পোস্টারে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছবি রাখা হয়নি অথচ অন্য দলের নেতা-নেত্রীদের ছবি ব্যবহার করে জাতীয় পার্টির নামে নির্বাচন করেছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এরা এরশাদের রাজনীতির উত্তরসূরী নয়। তারা সুবিধাবাদী এবং স্বার্থান্বেষী। তা না হলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে গোটা জাতীয় পার্টিকে কবরের কিনারে পৌঁছে দিয়ে ২৬ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। জাতীয় পার্টির নাম মুখে নিতে হলে তার জন্য জাতীয় পার্টির নেতা কর্মী সমর্থকদের কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। বক্তব্যে কাজী মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কেন জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের দিকে একবার ফিরে তাকাতে চাই। দেশ ও জাতির একান্ত প্রয়োজনে এবং স্বার্থে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছিল। নিজের ইচ্ছায় সেদিন তিনি শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। ওই সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে শহীদ হওয়ার পর দেশে পর্যায়ক্রমে ভয়াবহ ক্রান্তিকাল নেমে আসতে থাকে। বিচারপতি সাত্তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলেও সেই সরকার দেশ পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হতে থাকে। দেশ এক অরাজক রাজ্যে পরিণত হয়। গোটা দেশ দুর্নীতি আর দুঃশাসনের আগ্রাসনে নিমজ্জিত হয়। সেই অবস্থায় রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তার দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য তার দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে দেশের সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ওই সময়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন বলেই তাকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে হয়েছিল। তখন যিনিই সেনাপ্রধান থাকতেন তাকেই ক্ষমতা গ্রহণ করতে হতো।

তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে, একটি বিধ্বস্ত দেশকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করেই ঘোষণা করেছিলেন দুই বছরের মধ্যে দেশকে পুনর্গঠিত করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দুই বছরের মধ্যে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে তিনি ১৯৮৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন কিন্তু হুসেইন মুহমাদ এরশাদের কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। ১৯৮৪ সালে যদি রাজনৈতিক দলসমূহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতো, তাহলে আজকের জাতীয় পার্টির সৃষ্টি হতো না। কিন্তু সেই সময় রাজনৈতিক নেতৃত্ব অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ৮৪ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের দাবি ছিল সামরিক আইনের মধ্যে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। ফলে দেশে সামরিক শাসন আরও দুই বছর বৃদ্ধি পায়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ওহিদুর রহমান তরুণ, কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হাফসা সুলতানা, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাইদ গোফরান, নুরুল ইসলাম মিলন, নিগার সুলতানা, তুহিনুর রহমান প্রমুখ।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।