খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শেবাচিমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অকেজো, ভোগান্তি চরমে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
শেবাচিমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অকেজো, ভোগান্তি চরমে

দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্র থাকলেও তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক যন্ত্রপাতিই অকেজো অবস্থায় রয়েছে। যার কারণে সরকারিভাবে শতভাগ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ফলে রোগীদের সরকারি হাসপাতালের গিয়েও বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়; আর এতে খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের নানা ভোগান্তিও পোহাতে হয়।

 

একই অবস্থা বিরাজ করছে শহরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র বরিশাল সদর (জেনারেল) হাসপাতালেও। সেখানে রক্ত পরীক্ষার জন্য আনা অ্যানালাইজার যন্ত্র ৬ মাসের বেশি সময় ধরে প্যাকেট বন্দিই পড়ে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শেবাচিম সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের তিনটি সিটি স্ক্যানের মধ্যে শুধু একটি চালু আছে। আরেকটি একেবারে চলাচলের অচল এবং অপরটি মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া এনজিওগ্রামের একটি যন্ত্র অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অপরদিকে মেরামত করা সম্ভব নয় ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রটিও। সে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এমআরই মেশিন ২০১৮ সালের পর থেকে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া গত ৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে অত্যাধুনিক ল্যাসিক যন্ত্রটিও। চোখের ছানি অপারেশনের ফ্যাকো যন্ত্রটিও বিকল হয়ে পড়ে আছে।

রোগীর স্বজন কামরুল ইসলাম বলেন, ভাইয়ের ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সিটি স্ক্যান করাতে বলেছে চিকিৎসক কিন্তু হাসপাতালে সম্ভব নয় দেখে বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তাও আবার ট্রলিতে করে প্রধান সড়ক ধরে হাসপাতালের সামনে নিয়ে যেতে হবে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে কিন্তু কিছু করার নেই। ফাতেহা খানুন নামে অপর এক রোগী বলেন, গত ৬ মাস ধরে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করছি। ল্যাসিক যন্ত্র বিকল থাকায় চোখের চিকিৎসা করাতে পারছি না। আর বাইরে করানোর সাধ্য আমার নেই। জানা গেছে, কাগজে-কলমে দেড় হাজার শয্যার হলেও এক হাজার শয্যার লোকবল দিয়ে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলটি। আর এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়।  এছাড়াও বহির্বিভাগেও প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীকে ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়।

আবুল কালাম নামে নগরের এক বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালের ভেতর থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে যে টাকা খরচ হয় বাইরে প্রায় এর দ্বিগুণ খরচ হয়। আমরা চাই শেবাচিম হাসপাতালের ভেতরে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোক। আর এ কাজ বিগত দিনে কোন পরিচালক সব মেশিন সচল রাখতে পারেননি। আবার অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের স্টাফদের অদক্ষতার কারণেও মেশিন বিকল হয়ে পড়তো। তবে এবার মানুষ নতুন পরিচালককে নিয়ে অনেক আশাবাদী।  আশাকরি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেবাচিম হাসপাতাল ভালোর দিকে যাবে। সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আপাতত হাসপাতালের ল্যাবের যাবতীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ ও রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি আধুনিকায়নের কাজ করা হচ্ছে।  আশা করি আগামী দুই মাসের মধ্যে ল্যাবের কোনো পরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হবে না। অন্যান্য যন্ত্রপাতির জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।  এরইমধ্যে তিনটি যন্ত্র বরাদ্দ হয়েছে। তবে এমআরই ও কোবাল্ট-৬ যন্ত্র দুইটির বিষয়ে এখনই কিছু করা যাবে না। অন্যান্য যন্ত্রের সমস্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে।

এদিকে বরিশাল নগরের পূর্ব ও উত্তরাংশের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল সদর হাসপাতাল। একশ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে এবং বহির্বিভাগ থেকে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে। কিন্তু এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রই নেই, যা আছে তার মধ্যে কিছু অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতালের অ্যানালাইজার মেশিনটি ৬ মাসের বেশি সময় ধরে প্যাকেট বন্দি রয়েছে। যারা সরবরাহ করেছের তারা চালু করে না দেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কিছু করতে পারছে না।  তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য সিএমএইচডির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিশু ব্যতিত জেলায় ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত সব রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাই এখানে একটি ইলেকট্রোলাইট যন্ত্রটি খুবই জরুরি। কিন্তু এ যন্ত্রটি হাসপাতালে নেই। তবে যন্ত্রটির চাহিদা পাঠানো হয়েছে।  এছাড়া হাসপাতালে দুইটি এক্সরে মেশিন নষ্ট। এ দুটো মেরামত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আর সীমিত সামর্থ্যে দিয়েই সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে; তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্র পেলে আরও ভালো সেবা দেওয়া যেতো বলে জানান চিকিৎসরা। আর হাসপাতালটিতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেওয়ার দাবি জানান রোগী ও তাদের স্বজনরা।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।