সাত কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে?
রাজধানীর সাত কলেজের চলমান সমস্যা সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলেজ সাতটি হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাতটি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের ফলে কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবে এই সাতটি কলেজ, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৈঠকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সম্মানজনক পৃথকীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল– আগামী বছর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে না। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত আমরা এক বছর এগিয়ে এনেছি। চলতি (২০২৪-২৫) শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত কলেজের ভর্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে অতি দ্রুত কোনও একটি কর্তৃপক্ষের অধীনে নিতে হবে সাতটি কলেজকে। কলেজগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকছে না। তাছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও মানবে না শিক্ষার্থীরা। সে কারণে তৃতীয় কোনও কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবে এই সাতটি কলেজ। কিন্তু নতুন করে কোনও কর্তৃপক্ষ গঠন করা বা নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় করাও জটিল বিষয়। তাছাড়া ছাত্রদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনও উপায় নেই।
অধিভুক্তি বাতিলের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ইলিয়াস বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি যে সুপারিশ করবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর আমরা চলমান পরীক্ষাগুলো স্থানীয়ভাবে নেবো, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে এখন সাত কলেজ পরিচালিত হবে জানতে চাইলে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন কোনও কর্তৃপক্ষের আন্ডারে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিতে পরিচালিত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, তা হবে না। নতুন কোনও কর্তৃপক্ষের অধীনে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করে তার অধীনে পরিচালিত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো করতে গঠিত কমিটি যে সুপারিশ করবে, সেই সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করে এই সাত কলেজ পরিচালিত হবে কিনা জানতে চাইলে একটি কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় করা ছাড়া ছাত্ররা মেনে নেবে না। সে কারণে সরকারকে সেদিকেই যেতে হবে। তবে নতুন কোনও কর্তৃপক্ষ গঠন করা হতে পারে কিনা তা নিয়ে কোনও আলোচনা এখনও হয়নি।
এদিকে আন্দোলনকারীদের এক দফা দাবি- সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন