খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বার্সা তারকাকে কিনতে ৯২৯ কোটি টাকার প্রস্তাব ম্যানইউর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫, ৩:১১ অপরাহ্ণ
বার্সা তারকাকে কিনতে ৯২৯ কোটি টাকার প্রস্তাব ম্যানইউর

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পথ হারিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরে থাক, এখন সেরা দশেও থাকে না। একের পর এক কোচ পরিবর্তন করেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়তি। এবার নতুন কোচ রুবেন আমোরিমকে আনার পর অনেকেই ভেবেছিল, অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু না, আগের চেয়ে বরং খারাপ পরিস্থিতি ম্যানইউর। যে কারণে চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আগামী মৌসুম নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। যে কারণে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়ানোর জন্য বার্সেলোনার কাছে লোভনীয় এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে ম্যানইউ।

বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহাকে দলে ভেড়াতে চায় ম্যানইউ। এ কারণে তাকে কিনতে বার্সাকে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৯২৯ কোটি টাকা) প্রস্তাব দিয়েছে রেড ডেভিলরা। এ নিয়ে এখন ইউরোপের ফুটবলে তোলপাড়। বিস্ফোরক গতি, অসাধারণ স্কিল এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভীতি তৈরিতে দারুণ ক্ষমতার জন্য পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। ইউরোপিয়ান ফুটবলে এ কারণেই সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত রাীফনা। ম্যানইউ এ কারণেই রাফিনহাকে নেয়ার জন্য মাঠে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটা তাদের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে, সে সঙ্গে রাফিনহাকে পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে নিজেরে এগিয়ে রাখলো। বার্সেলোনা এই প্রস্তাব নিয়ে কী ভাবছে তা জানা যায়নি। তবে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে নিশ্চিতভাবেই এ মুহূর্তে হারাতে চাইবে না বার্সা। কারণ, এবারের মৌসুমেই স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ৪২ ম্যাচে ২৭টি গোল করেছেন রাফিনহা। সে সঙ্গে ১৮ গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

স্প্যানিশ লা লিগায় এখনও পর্যন্ত শীর্ষে আছে বার্সা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও অনায়াসে উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। বার্সার যে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা, হান্সি ফ্লিক যে দলটিবে গড়ে তুলেছেন, সেখানে সেস্টার পয়েন্টে আছেন বলা যায় রাফিনহা। সুতরাং, তাকে এ মুহূর্তে বার্সা ছাড়বে কি না সন্দেহ। তার সঙ্গে তাই চুক্তি নবায়নেরও আলোচনা চলছে। আবার অন্যদিকে আর্থিক সমস্যা থাকায় এমন লোভনীয় প্রস্তাব ছেড়ে দেয়াও বার্সার জন্য কঠিন। সামনের দিনগুলোতে বোঝা যাবে, আসলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে গড়ায়।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।