খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মিটার ও তার সংকটে নতুন সংযোগ বন্ধ, বিপাকে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, ২:১৬ অপরাহ্ণ
মিটার ও তার সংকটে নতুন সংযোগ বন্ধ, বিপাকে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহক সেবা দিন দিন চরম ভোগান্তি আকার ধারণ করছে। দীর্ঘ মাসের পর মাস ধরে গ্রাহকরা অনলাইনে নতুন মিটার জন্য আবেদন করে নির্ধারিত ১৩৮ টাকা চার্জ ফি জমা দেয়। আবেদন গ্রহন করা হলে মিটারের জন্য ৫৩০ টাকা চার্জ ফি জমা দেওয়া হয়েছে। সেই আবেদন করে মিলছে না আবাসিক বা বানিজ্যিক নতুন মিটার সংযোগ। ফেইজ মিটার সংযোগ সার্বিস ড্রপ তার এবং নতুন মিটার চরম সংকট দেখা দিয়েছে হপবিস সদর দপ্তর শায়েস্তাগঞ্জ সহ ভৌগোলিক এলাকায়। একই দশা থ্রী ফেইজ মিটার। সব মিলিয়ে আবাসিক ও বানিজ্যিক নতুন গ্রাহকরা পড়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে।

জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জিল্লুর রহমান

অন্যদিকে হপবিস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যেন গা ছাড়া দিয়ে বসে আছেন। তবে বর্তমানে অভিযোগ রয়েছে, নতুন মিটার ও তার সংকট দেখা দিলে ও বিষয়টি কোন আমলেই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। বেশ কয়েক দিনের অনুসন্ধানে দেখা যায় , হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সদর দপ্তরে প্রতিনিয়ত নতুন আবেদনকারী গ্রাহকরা অফিসে আসছেন। প্রায় সময় নতুন মিটারের জন্য বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন উভয়ে। আবেদনকারী নতুন গ্রাহক নানু মিয়া সহ আরো ৩/৪ জন জানান, আমরা বাসা- বাড়ি ও দোকানে জন্য নতুন মিটার আবেদন করেছি এবং টাকা পয়সা জমা দিয়েছি কিন্তু সদর কারিগরী ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌঃ এম এ সাঈদ গাফিলতি ও অবহেলা কারণে নতুন মিটার পাচ্ছে না গ্রাহকরা ।

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সদর- কারিগরী) প্রকৌঃ এম এ সাঈদ

এদিকে সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কাছে জিজ্ঞাসা করলেই নতুন মিটার ও তার সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন মিটার ও তারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে কিন্তু চিন্তা বিষয় নয়। যখন আসবে তখন আপনাদেরকে জানানো হবে। আবার কোন কোন নতুন গ্রাহককে কয়েকদিনের মধ্যে মিটার ও তার দিচ্ছি দিচ্ছি বলে ব্যস্ততা দেখায়। একই অভিযোগ থ্রী- ফেইজ মিটার সংযোগে ও এরকম অভিযোগ রয়েছে আরো অর্ধশতাধিক। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বর্তমান কর্তৃপক্ষের নিরবতাকেই গ্রাহক সেবার নামে ভোগান্তি হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয় মহল। এ ধরনের আবাসিক ও বানিজ্যিক নতুন মিটার নেওয়ার পূর্বে গ্রাহকরা ভোগান্তি হয়নি। গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধিতে সংযোগ তার ও নতুন মিটার সরবরাহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করবে এমনটাই প্রত্যাশা গ্রাহকদের।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, আসলে নতুন আবেদনকারী গ্রাহকদের ভোগান্তি ভূল। অফিসে মিটার ও তার আসছে যাচ্ছে এবং সংযোগ লাগানো হচ্ছে। পর্যায় ক্রমে সকলেই নতুন মিটার দেওয়া হবে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি কারণে প্রকল্পের কাজের ধীরগতি। আশা করছি এ সমস্যা বেশি দিন থাকবে না।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।