খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

নিঃস্বার্থ সমাধান চাইলে রক্ত ঝরবে না: তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:১২ অপরাহ্ণ
নিঃস্বার্থ সমাধান চাইলে রক্ত ঝরবে না: তারেক রহমান

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। সেই বাণীতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘নানা ঘটনা ও দুর্ঘটনার সাক্ষী ১৪৩১ সাল অতিক্রম করে ১৪৩২ সালের প্রভাতে অজানা কাল-প্রাঙ্গণের সীমানায় আমরা উপস্থিত হয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান ভেসে যাচ্ছে রক্তে-বিষ্ফোরণ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বে শান্তি আনতে সমাধানহীন এক প্রহেলিকার মধ্যে থাকলে হবে না। স্বার্থ কখনও সমাধান নয়। আমরা নিঃস্বার্থ সমাধান চাইলে রক্ত ঝরবে না, শান্তির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে না। আমাদের গত বছরের ক্লান্তি, হতাশা ও গ্লানিকে অতিক্রম করে নতুন উদ্যমে অগ্রসর হতে হবে।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সই করা বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ১৪৩২, বাংলাদেশি জাতিসত্তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নববর্ষ উদ্‌যাপন। বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশিদের হৃদয়ে তার প্রকাশ অনন্য ভিন্নরূপ। আমি এই উৎসবমুখর দিনে দেশ-বিদেশের সব বাংলাদেশিদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে নানা রূপ ও বৈচিত্র্য নিয়ে জাতির জীবনে বার বার ঘুরে আসে পহেলা বৈশাখ। নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে যেন ভরে ওঠা প্রকৃতি ও প্রাণের যোগ আবহমানকাল ধরে বিদ্যমান। আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয় স্বজাতির অতীত গৌরব ও ঐশ্বর্য। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুদূর অতীতকাল ধরে নির্মীয়মাণ বিশালত্ব এক শক্ত ভিত্তি লাভ করে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্বের বাণী একত্রিত হয়ে গঠন করে এক সুগ্রন্থিত জাতি। জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান। প্রতি বছর নববর্ষ পেছনের আলোকের দীপ্তিতে উৎকর্ষতা ও অগ্রগতির পথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়।’

‘এখন আমাদের প্রাণবন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের উদার দৃষ্টিভঙ্গির যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবণতা রয়েছে তার ভিত্তিতে বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিরস্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’ বলেন তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলা সন-তারিখ আমাদের প্রাত্যহিক জীবন, দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, তাই এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিদগ্ধজনের মানসিক আশ্রয় ও মননের পরিচর্যার উৎসস্থল। সুপ্রাচীনকাল ধরে গড়ে ওঠা ভাষা ও কৃষ্টির নিবিড় বন্ধন ভেঙ্গে ফেলার জন্য বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের এ সম্পর্কেও সচেতন ও সদা জাগ্রত থাকতে হবে।’

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।