খুলনায় সুমনের হত্যাকারী মোমিন র্যাব ৬ এর হাতে গ্রেফতার
প্রকাশ্যে সূর্যের আলোতে বেলা বারোটার সময় ফুলতলা জামিরা ইউনিয়নের পিপরাইল গ্রামের পূর্ব পাড়ার সুমন মোল্লা পিতা রকিব উদ্দিন মোল্লার হত্যার আসামী মোমিন গাজী পিতা নায়েক গাজী কে আজ আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে র্যাব- ৬ এর যশোরের বিশেষ টিম গ্রেপ্তার করেছে।
২২/৪/২০২৫ ইং তারিখ পিপরাইল এলাকার সুমন নামের এক যুবক কে মোমিন গাজী সহ একদল সন্ত্রাস গুলি করার পর মুহূর্তে মৃত্যু ঘটে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পথে।
এ ব্যাপার নিয়ে ঘটনার দিনগত রাতে ডাউকানা গ্রাম হতে সন্দেহ জনক ভাবে মিনারুল পিতা লতিফ মোল্লা কে গ্রেফতার করে একই রাতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম পিঁপরাইল হতে নুর ইসলাম মোল্লা পিতা কুদ্দুস মোল্লা কে ঘটনার তথ্যভিত্তিক গ্রেপ্তার করে।
হত্যার ঘটনায় বর্ণিত, সুমন মোল্লা পিতা রকিব উদ্দিন মোল্য কে একই এলাকার নায়েক গাজী পিতা মোমিন গাজী সহ তার সহযোগী রা আগ্নি অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে স্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছেন।
এলাকার সূত্রে বর্ণিত সুমন মোল্লা পিতা রকিব মোল্লা আজ সকাল আনুমানিক দশ ঘটিকার সময় জামিরা বাজারের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা হয় এই বলে যে আমাকে কেউ ডাকছে, পরবর্তী আনুমানিক বেলা বারোটার সময় মৃত সুমন মোল্লা নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পিপরাইল দাসপাড়া এলাকার সংলগ্ন বিল ডাকাতিয়ার একটি ধান ক্ষেতে দুই তিন জন মিলে সুমনের বাহুর ওপার ও মুখ মন্ডলের কপলের নিম্নভাগের চলের নিচ বরাবর আগ্নি অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করলে সুমন মোল্লা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পথিমধ্য চলাচল করা জনগণ বিষয় টি লক্ষ্য করে সুমনকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে এরই মধ্য সুমনের ঘাতকরা দ্রুত মোটরসাইকেল যোগে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিকভাবে সুমনকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঘটনাস্থল হতে ভ্যানযোগে জামিরা বাজার আনার পরবর্তীতে মাহেন্দ্রযোগে ফুলতলার আলকা এলাকায় আসার পর সরকারি এম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্য সুমনের মৃত্যু ঘটে।
সুমনের মৃত্যুর পূর্বে গণমাধ্যম কর্মী সুমনের কাছে তার হত্যাকারীর নাম জানতে চাইলে সুমন নিজের মুখে বা মাথা নাড়িয়ে তার ঘাতকের নাম ইঙ্গিত করে।
সুমনের এলাকা জামিরা, পিপরাইলের অনেকেই এই ঘটনায় মর্মহত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সুমনের এলাকার পাড়া-প্রতিবেশী মুমিন পিতা না য়েক গাজী তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল মেরে ফেলার।
যে ব্যাপারে সুমনের পরিবারের আপনজনদের সাথে কথা বললে জানা যায়। অত্র এলাকা হতে সাধারণ জনগণ এমন তথ্য দিয়েছে সুমনের সাথে মোমিনের ব্যক্তিগত কোন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ একটি সময় ধরে মনদন্দ বা ঝামেলা চলে আসছিল যে বিষয়গুলো সাধারণত প্রকাশ্যে আসে নাই।
তবে এলাকার অনেকেই অনেক ধরনের মন্তব্য করেছেন।
যার মধ্য বেশ পূর্বে পিপরাইল গ্রামের নতুন পাড়া, পূর্বপাড়া নিয়ে, একটি মল্ল যুদ্ধ হয়েছিল গানের কনসার্টকে কেন্দ্র করে। উক্ত ঘটনায় সুমন সহ তার প্রতিপক্ষরা আহত ও যখম হয়েছিল গুরুতর ভাবে।
পরবর্তীতে অত্র এলাকায় সাদ্দাম নামের এক যুবকের সঙ্গে সুমনের বড় ধরনের কেনজাম ও হয়।
আবার অনেকেই বলেছেন মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও এই হত্যার পিছনের ইঙ্গিত থাকতে পারে।
সুমন মমিন সহ অনেকেই অপরাধের সাথে কোথাকার কথা বলেছেন সাধারণ জনগণ।
উক্ত এলাকার লোকজনের মন্তব্যে এটাই প্রমাণ হয় যে, সুমন কে যারা নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারা কোন অবস্থায় ভালো মানুষ নয়।
যারা প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে একজন মানুষকে গুলি করে হত্যা করতে পারে তারা কোন দলের বা দেশের হতে পারে না।
এ ব্যাপারে সুমনের হত্যাকারীদের ধরতে মাঠে প্রশাসন বেপরোয়া।
আজ বেলা ৫ ঘটিকার পরে সুমনের নিজ বাস গৃহে জানাযা ও দাফন সম্পন্নের পর পারিবারিক কবরস্থানে সুমনের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় থানা ফুলতলার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জের সাথে কথা বলে জানা যায় মৃত সুমনের পিতা রকিব উদ্দিন মোল্লা থানা তে স্বশরীরে উপস্থিত হইয়া ঘটনার পরের দিন দিন গত রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন আটজনকে আসামি করে।
সুমনের অন্য হত্যাকারীদের কে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন