খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিশেষ সহকারীর সঙ্গে ঢামেক শিক্ষার্থীদের বৈঠক, আন্দোলন নিয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত

খান আহমেদ ইফতেখার, মেডিকেল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিশেষ সহকারীর সঙ্গে ঢামেক শিক্ষার্থীদের বৈঠক, আন্দোলন নিয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত

চলমান অচলাবস্থা নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীরা। বৈঠকের আলোচনাকে ফলপ্রসূ হিসেবে মনে করছেন তারা। তবে আন্দোলন নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছেন না এসব শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, আজ সোমবার (২৩ জুন) বেলা ১২.৪০ মিনিটের দিকে সচিবালয়ে শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাত সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। এ সময় ডা. ফজলে রাব্বি হলের সহকারী প্রভোস্ট ডা. শহিদুল ইসলাম আখন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সচিবালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী তমাল রায় দৈনিক ঢাকার ডাককে বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে ৭ জন স্টুডেন্ট প্রতিনিধির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি আশ্বাস দেন যে আগামী সপ্তাহে একনেক এর মিটিং এ ১৯ টি মেডিক্যাল কলেজর হল সংস্কারের প্রস্তাব উঠবে; সেখানে ঢামেক প্রাধান্য পাবে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কথায় আমাদের স্টুডেন্ট প্রতিনিধিরা রাজি হন এবং দ্রুত প্রিন্সিপাল মহোদয়ের সঙ্গে আরেকটি মিটিং করে রেগুলার ক্লাস ও ওয়ার্ড চালুর ব্যাপারে সবাই আশাবাদী। হল সংস্কারের আগ পর্যন্ত আমরা কেউ হল ত্যাগ করছি না বলেই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বরাবরই আমাদের দুর্দশার ব্যাপারে উদাসীন ছিলো। তারা শুধু ৪ তলা সংস্কার করতে রাজি এবং কতিপয় বাথরুম এ টাইলস স্থাপন করতে চায়। অথচ যেখানে মাথার ছাদের ঠিক নেই সেখানে এসব বিলাসিতা অবান্তর। উল্লেখ্য, ৪ তলার বাসিন্দাদের সরিয়ে মাঠের মধ্যে টিনশেডের একটি অস্থায়ী ছাউনিতে রেখে ৪ তলা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ যেটা স্টুডেন্টরা নাকচ করে দেয়।’

আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তমাল রায় বলেন, ‘আগামীকাল স্যারদের সঙ্গে সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিটিং হলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব কর্মসূচি সম্পর্কে। মিটিং হলে আশা করি একটি সিদ্ধান্তে চলে আসা যাবে।’

এর আগে সকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে সচিবালয়ে যান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়নি। এর পরিবর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক ঢাকার ডাকের স্বাস্থ্য বিটের সহ-সম্পাদকের সাথে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. মঈন উদ্দিন চিশতী। তিনি বলেন, ‘সারাদেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে যখন অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয় তখন তাদেরকে বসবাস করতে হচ্ছে অমানবিক পরিবেশে- বাসস্থানের সংকট, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ঝুকিপূর্ণ বাসস্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি নেই। এই অব্যবস্থাপনা দ্রুত সমাধান জরুরি। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আমি আশা করি সরকার দ্রুত এবং মেডিকেল কলেজ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিবে।’

গত শনিবার (২১ জুন) পাঁচ দফা দাবিতে ঢামেক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এদিন অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি কলেজ প্রশাসনকে স্মারকলিপিও দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে একই কারণে ১৭ জুন ওরিয়েন্টেশন বর্জন করেন নবাগত কে-৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের জন্য দ্রুত বাজেট পাস, আবাসন ব্যবস্থা নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নতুন একাডেমিক ভবনের জন্য আলাদা বাজেট পাস করা, আবাসন ও একাডেমিক ভবনের বাজেট পৃথকভাবে অনুমোদন ও দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন এবং সব প্রকল্প ও কার্যক্রমের অগ্রগতি শিক্ষার্থীদের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপনের জন্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়োগ।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শনিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রোববার বেলা ১২টার মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস