খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি

মো শহীদুল ইসলাম, শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ৮:১২ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি

হবিগঞ্জ টার্মিনাল ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে কোনো টোল আদায় করা যাবে না মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় টোল আদায়ের নামে চলছে রীতিমতো চাঁদাবাজি। চলন্ত গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে টাকা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারদারের নিয়োগকৃত ব্যাক্তিদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হতে হয় চালকদেরকে। এভাবে মাসে কয়েক লাখ টাকা সহযোগীদের মাধ্যমে আদায় করছেন ইয়াসিন খান তারেক নামে একব্যক্তি।

জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর দীর্ঘদিনের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় টোল আদায় বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারো শুরু হয়েছে টোল আদায়। ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় পণ্য ওঠা-নামার ক্ষেত্রে টোল আদায়ের জন্য ইজারা নেন ইয়াসিন খান তারেক। তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনা ও পৌরসভার ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নিজস্ব লোক দিয়ে সড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছেন। এতে করে সড়কে যানজট সৃষ্টিসহ নানান ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ বাইপাস সড়কের পুরান বাজার মোড়ে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এমনকি যাত্রীবাহী টমটম থামিয়ে চাঁদা আদায় করছেন আপিল মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান ইজারাদার ইয়াসিন খান তারেক তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তারেককে দৈনিক ২০০০ টাকা করে দিতে হয়। ড্রাইভার বাজারে অন্য লোকের মাধ্যমে টাকা আদায় করেন তারেক।
এ সময় টমটম চালক নুর উদ্দিন জানান, তিনি সদর উপজেলার পইল থেকে যাত্রী নিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার মুরারবন্দ মাজারে যাচ্ছিলেন। পুরান বাজার পয়েন্টে আসার পরে আপিল মিয়া তাকে থামিয়ে ২০ টাকা টোল দিতে বলেন। যাত্রী উঠানামা না করা সত্যেও কেন টোল দিতে হবে এনিয়ে বাক-বিতন্ডা হয় দুজনের। পরে বাধ্য হয়ে ১০ টাকা দিয়ে পার পান তিনি।
ট্রাক চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “বানিয়াচং থেকে ধান নিয়ে আশুগঞ্জ যাচ্ছি। শায়েস্তাগঞ্জে আসার পর ১০০ টাকা টোল দিতে হয়েছে। এটি রীতিমতো চাঁদাবাজি।”
এ বিষয়ে ইজারাদার ইয়াসিন খান তারেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
একই বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার পল্লব হোম দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল হাইকোর্টে বিভাগে করা এক রিট পিটিশনের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ছাড়া সড়ক বা মহাসড়ক থেকে কোনো প্রকার টোল না তোলার জন্য সব সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাখার উপসচিব আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন), যুগ্ম সচিব (নগর উন্নয়ন-২), উপ-সচিব (পৌর-২), সচিবের একান্ত সচিব (ঢাকা) এবং সব পৌরসভার মেয়রকে পত্র দেওয়া হয়।
ওই পত্রে টার্মিনাল ছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক থেকে কোনো প্রকার টোল আদায় করা যাবে না বলে উল্লেখ থাকলেও হাইকোর্টের ওই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো শায়েস্তাগঞ্জ পৌরশহরের বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন থামিয়ে পৌর টোল আদায় করা হচ্ছে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।