গলাচিপার গোলখালী ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া পারাপার: জনদুর্ভোগ চরমে
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নে বয়ে যাওয়া একটি নদীর দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা এখন ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া পারাপার। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই খেয়ায় চলাচল করলেও, এর বেহাল দশা এবং ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
নদীর দুই পাড়ে জেটি না থাকায় গাড়ি উঠানো-নামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের খেয়ায় উঠতে ও নামতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছোট-বড় যানবাহন এবং সাধারণ যাত্রীরা কাদামাটির মধ্য দিয়ে খেয়ায় ওঠানামা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে যে খেয়াটি চলাচল করছে, সেটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ও যানবাহন বহন করছে। এটি একটি বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, খেয়াঘাটের ইজারাদার মো. আলামিন মৃধা ও মোঃআনোয়ার মিয়া নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার বিভিন্ন দপ্তরের কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে টোল চার্ট ছাড়াই ঘাট চালাচ্ছেন। এতে করে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ইজারাদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খেয়া পারাপারের এই নাজুক অবস্থা এবং ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতা ।
এলাকাবাসী দ্রুত একটি জেটি নির্মাণ এবং খেয়াঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীমাতৃক বাংলাদেশে খেয়া পারাপার একটি অপরিহার্য ব্যবস্থা। তবে এর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া চলাচল শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জীবনহানির আশঙ্কাও তৈরি করে।
গোলখালী ইউনিয়নের জনসাধারণের এখন একটাই দাবি দ্রুত এই খেয়াঘাটের আধুনিকীকরণ, জেটি নির্মাণ এবং নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদ খেয়া পারাপার নিশ্চিত করা। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।



আপনার মতামত লিখুন