খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মো :আব্দুল বাতেন বাচ্চু
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে স্কুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাফেজ মো. ফাহমিদুল ইসলাম ফাহমিদ (২৪) নামে হাটহাজারী মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে মাওনা উড়ালসেতুর উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। (ওসি) কামরুজ্জামান পরে সকাল ১০টার দিকে বহেরারচালা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত ফাহমিদুল ইসলাম ফাহমিদ শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বহেরারচালা নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও নিহতের চাচা আক্তার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সপ্তাহে মাদ্রাসা থেকে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন ফাহমিদুল। সোমবার রাতে বন্ধু শামীমকে নিয়ে মাওনা এলাকায় চুল কাটাতে যান তিনি। কাজ শেষে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিজ স্কুটি বাইকে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসেতুর পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। স্কুটিটি ফাহমিদুল নিজেই চালাচ্ছিলেন।

তারা মাওনা এলাকার মুড়ির মেইলের কাছে পৌঁছালে ময়লার পানিতে স্কুটির চাকা পিছলে যায়। এতে ফাহমিদুল স্কুটি থেকে সড়কের ডান পাশে পড়ে যান। এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা ফাহমিদুলকে উদ্ধার করে মাওনার আল-হেরা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা শামীম আহত হয়েছেন।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান ঢাকার ডাক কে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়। ট্রাকটি পেছন থেকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস