খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, বাড়িওয়ালার আচরণ নিয়ে রহস্যজনক

নাজমুল
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, বাড়িওয়ালার আচরণ নিয়ে রহস্যজনক

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি বাড়ির বাইরে তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতর থেকে তরিকুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৫টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইস্টার্ন হাউজিং চেতনা সংস্থা মালিক পক্ষ আব্দুল আউয়াল কাজীর ৫তলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলো। পরে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তরিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল বলেন, “লাশ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিক আব্দুল আউয়াল কাজীর ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য চাইলে তিনি বক্তব্য দেননি।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ছয়তলা এলাকায় “চেতনা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠার কথাও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, জামগড়া পল্লী চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনের ১৩ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আলোচিত ইদ্রিস হুজুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের নাম এসেছে এবং কাজী আব্দুল আউয়াল ওই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অনেকেই জানান। তবে তরিকুল ইসলামের মৃত্যু রহস্যজনক বলে জানায় স্থানীয়রা।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস