খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

শৈলকুপায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিভলো অবুঝ তাওহিদের জীবন

মোঃ আবু হুরাইরা মিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
শৈলকুপায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিভলো অবুঝ তাওহিদের জীবন

মা-বাবার অনেক আশা ছিল, তাওহিদ বড় হয়ে বাবার পাশে দাঁড়াবে, সংসারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু একটি ঘাতক চাকা নিমেষেই গুঁড়িয়ে দিল সেই রঙিন স্বপ্ন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইটভাটার ট্রাক্টরের (হ্যারো গাড়ি) নিচে পিষ্ট হয়ে জীবন দিতে হলো মাত্র ১০ বছরের শিশু তাওহিদকে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাটফাজিলপুর এলাকার ‘মোল্লা ব্রিকস’ নামক একটি ইটভাটায় এই করুণ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তাওহিদ শৈলকুপা উপজেলার ৫নং কাঁচের কোল ইউনিয়নের পাঁচপাখিয়া গ্রামের গাড়িচালক জসিম শেখের একমাত্র পুত্র সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হাটফাজিলপুরের ‘মোল্লা ব্রিকস’ ইটভাটায় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি হ্যারো গাড়ি (বিশেষ ধরণের মাটি কাটার ট্রাক্টর) দ্রুতগতিতে চলাচল করছিল। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শিশু তাওহিদ গাড়িটির নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘাতক গাড়িটির ভারী চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাওহিদ লুটিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে নিভে যায় নিষ্পাপ শিশুটির প্রাণপ্রদীপ। ঘটনার পরপরই ইটভাটায় এক হাহাকার ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

“আমার আর কেউ রইলো না রে! কারে নিয়ে বাঁচবো আমি?” মা-বাবার অবর্ণনীয় আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পাঁচপাখিয়া গ্রামের বাতাস।
পেশায় গাড়িচালক জসিম শেখ দিনের পর দিন অন্যের গাড়ি চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তাওহিদ ছিল তার বুকজোড়া আশা ও একমাত্র ছেলে। এক লহমায় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পিতা জসিম শেখ। অন্যদিকে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটভাটাগুলোতে যত্রতত্র বেপরোয়া গতিতে মাটাবাহী ট্রাক্টর ও হ্যারো গাড়ি চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সতর্কতার অভাবে বারবার ঝরে যাচ্ছে অবুঝ প্রাণ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার সাধারণ মানুষের দাবি, ইটভাটার মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অভিজ্ঞ ড্রাইভার ছাড়া মাটি বহনকারী ভারী যানবাহন চালানো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি ভুলের কারণে আর কোনো মা-বাবার বুক যেন খালি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস