শৈলকুপায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিভলো অবুঝ তাওহিদের জীবন
মা-বাবার অনেক আশা ছিল, তাওহিদ বড় হয়ে বাবার পাশে দাঁড়াবে, সংসারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু একটি ঘাতক চাকা নিমেষেই গুঁড়িয়ে দিল সেই রঙিন স্বপ্ন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইটভাটার ট্রাক্টরের (হ্যারো গাড়ি) নিচে পিষ্ট হয়ে জীবন দিতে হলো মাত্র ১০ বছরের শিশু তাওহিদকে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাটফাজিলপুর এলাকার ‘মোল্লা ব্রিকস’ নামক একটি ইটভাটায় এই করুণ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তাওহিদ শৈলকুপা উপজেলার ৫নং কাঁচের কোল ইউনিয়নের পাঁচপাখিয়া গ্রামের গাড়িচালক জসিম শেখের একমাত্র পুত্র সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হাটফাজিলপুরের ‘মোল্লা ব্রিকস’ ইটভাটায় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি হ্যারো গাড়ি (বিশেষ ধরণের মাটি কাটার ট্রাক্টর) দ্রুতগতিতে চলাচল করছিল। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শিশু তাওহিদ গাড়িটির নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘাতক গাড়িটির ভারী চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাওহিদ লুটিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে নিভে যায় নিষ্পাপ শিশুটির প্রাণপ্রদীপ। ঘটনার পরপরই ইটভাটায় এক হাহাকার ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
“আমার আর কেউ রইলো না রে! কারে নিয়ে বাঁচবো আমি?” মা-বাবার অবর্ণনীয় আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পাঁচপাখিয়া গ্রামের বাতাস।
পেশায় গাড়িচালক জসিম শেখ দিনের পর দিন অন্যের গাড়ি চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তাওহিদ ছিল তার বুকজোড়া আশা ও একমাত্র ছেলে। এক লহমায় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পিতা জসিম শেখ। অন্যদিকে সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটভাটাগুলোতে যত্রতত্র বেপরোয়া গতিতে মাটাবাহী ট্রাক্টর ও হ্যারো গাড়ি চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সতর্কতার অভাবে বারবার ঝরে যাচ্ছে অবুঝ প্রাণ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার সাধারণ মানুষের দাবি, ইটভাটার মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অভিজ্ঞ ড্রাইভার ছাড়া মাটি বহনকারী ভারী যানবাহন চালানো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি ভুলের কারণে আর কোনো মা-বাবার বুক যেন খালি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]