খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চা জরুরি:আরডিএ চেয়ারম্যান

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চা জরুরি:আরডিএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।

শনিবার (১০ অক্টোবর)রাজশাহীতে শাপলা কালচারাল স্কুল প্রাঙ্গণে শাপলা সৃজনমঞ্চ আয়োজিত নজরুল উৎসব-১৪৩৩ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন,বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় ঘটেছে। আমরা অনেকেই নিজেদের কৃষ্টি-কালচার ও ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে বিদেশি সংস্কৃতি নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এতে নিজেদের স্বকীয়তা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,আমরা বাংলাদেশি, আমাদের নিজস্ব একটি কালচার আছে। এই ভুলে যাওয়া থেকে আমাদের ফিরে নিয়ে আসার জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত জরুরি। নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিকল্প নেই। এ ধরনের উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু,এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মোঃশাফিকুল হক মিলন, এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ,পিপিএম,রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃমোহসিন আলী।

আয়োজকরা জানান,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীল চর্চাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজনের করা হয়। উৎসবের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শাপলা কালচারাল স্কুল এবং সহযোগিতায় ছিল শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস