খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে যশোরে জেলা ইমাম পরিষদের আলোচনা সভা

মোঃ শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে যশোরে জেলা ইমাম পরিষদের আলোচনা সভা

যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে যশোরে ‘মাদকের বিস্তার রোধ ও যুবসমাজের নৈতিক শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) যশোর জেলা স্কুল অডিটোরিয়ামে জেলা ইমাম পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি মাওলানা বেলায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামি’আতুল উলূমিল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস ও ইনসাফ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আ.ব.ম. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক মাওলানা শরীফ মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা কবীর আহমাদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের প্রভাব ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো সমাজ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিরোধ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে তরুণদের নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে মাদকমুক্ত, সচেতন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আয়োজকদের তথ্যমতে, আলোচনা সভায় ইমাম, খতিব, বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ৯ শতাধিক সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুফতি মুজিবুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা হামিদুল ইসলাম, মাওলানা নাছীরুল্লাহ, মাওলানা নাজির উদ্দীন, মুফতি শামছুর রহমান, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, মুফতি হাফিজুর রহমান, মুফতি কামরুল আনোয়ার নাঈম, মুফতি আছুর রহমান এযাযী, মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী ও মুফতি উবায়দুল্লাহ শাকিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস