খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

সিসিক প্রশাসক বললেন “”উপযুক্ত পরিবারগুলো যেন ফ্যামিলি কার্ড পায়”

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
সিসিক প্রশাসক বললেন “”উপযুক্ত পরিবারগুলো যেন ফ্যামিলি কার্ড পায়”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২ অক্টোবর দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের পরিবার ভিত্তিক সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সে উদ্বোধনের পর সারা দেশের ন্যায় সিলেটে শুরু হবে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম। সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়এর বাস্তবায়নে যথার্থ পদক্ষেপ নিয়েছে।

সিলেট নগরীতে তথ্য সংগ্রহে কাজ করবে এমন ১৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৩জন সুপারভাইজার কে দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন হয়েছে আজ রবিবার।

বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড উপযুক্ত ব্যক্তি বা পরিবারের কাছে পৌঁছাতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেবা অধিদপ্তর।
টেকসই তথ্য সংগ্রহ করতে সরকার সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে মাঠ পর্যায়ে বিচরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে চলছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পূর্ববর্তী কার্যক্রম। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দল-মত বিবেচনা না করে যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে ভুলভ্রান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে, যাতে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়।এসময় সিসিক প্রশাসক বললেন,””উপযুক্ত পরিবারগুলো যেন
ফ্যামিলি কার্ড পায়””

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর শেখঘাটে সমাজসেবা কমপ্লেক্সে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহর সমাজসেবা কার্যালয় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে নারীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীরা পরিবার ও সমাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলম। সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ক্লাস ও প্রশিক্ষণ প্রদান
করেন প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর গুরুত্বারপ করে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় সিলেট এর পরিচালক শহিদুল ইসলাম,সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিন৷
মোঃ আশিক নুর,, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুর রফিক, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর আলম।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস