খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডিমলায় বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী প্রধান

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ডিমলায় বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী প্রধান

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ গোলাম রব্বানী প্রধান। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য এবং ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

গত ১ অক্টোবর দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয়টির চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন করে। বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আমিনুল হক স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী প্রধান। অন্য সদস্যরা হলেন শিক্ষক প্রতিনিধি নূরুজ্জামান, অভিভাবক প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম এবং সদস্যসচিব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার রায়।

বোর্ডের অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে ছয় মাস। এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে না।

নতুন এ কমিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নবনিযুক্ত সভাপতি গোলাম রব্বানী প্রধান বলেন, “শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস