খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর দোকানঘর দখল করলো শওকত গং

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর দোকানঘর দখল করলো শওকত গং

কাঙ্খিত চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর দোকানঘর দখল করার অভিযোগ রয়েছে শওকত গংয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গাজীপুর বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রবাসীর মা রাহেলা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়া থানার জিরানীর মুসলিমটেক এলাকায়।

গত রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিনটি দোকানের মধ্যে নানা ভাই টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক দোকানটি খোলা রয়েছে। বাকী দুটি দোকান তালাবদ্ধ।
দোকানদার সোহেল রানা জানায়, সে দোকানের ভাড়া শওকতকে দেয়।
দোকানের পিছনে গিয়ে দেখা যায় নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। নির্মাণ সামগ্রী ইট, বালি, সিমেন্ট নষ্ট হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘ দিন তিন দোকানের ভাড়া নেন প্রবাসী মাসুম পারভেজ। ইট, বালি ও সিমেন্ট নিয়ে দোকানের পিছনে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তার পরিবার। গত ১০/৪/২৬ তারিখে বেআইনিভাবে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে স্থানীয় শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীর নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে। তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বন্ধ করে দেয় কাজ। প্রবাসীর মা রাহেলা বেগম ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ করলে তাকে কিল, ঘুষি মেরে শারীরিক নির্যাতন করে তারা। ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে নির্মাণ কাজ করতে দিবে না বলে তারা হুমকি প্রদান করেন। পাশাপাশি নির্মাণ কাজের ওয়াল ভেঙে সিমেন্ট বালি নষ্ট করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তীতে বিবাদীগণ ভয়ভীতি ও বাদিনীর ভাড়াটিয়া দোকানদারদের হুমকি দিয়ে তিনটি দোকানঘর তালা লাগিয়ে দখল করে নেয়। পরে গত ১৬/৪/২৬ তারিখে রাহেলা বেগম বাদী হয়ে গাজীপুর বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী) আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি তদন্ত করে কাশিমপুর থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। গত ২৪/৯/২৬ তারিখে আসামিগণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গত ২৮/৯/২৬ তারিখে নিম্ন আদালতে আসামিগণ স্বেচ্ছায় আত্নসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত আসামিগণের জামিন ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত মঞ্জুর করে।

বাদী রাহেলা বেগম বলেন, আসামিরা জামিন পেয়ে অনবরত তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীতায় ভুগছেন। এখনও দখলকৃত দোকান বুঝে পাইনি। কাজের জন্যে আনা নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সম্পত্তি কিনেছি। এখন ঋণের কিস্তি দিতে কষ্ট হচ্ছে।

এই সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত মো.শওকত এর মোবাইল ফোনে যোগাগোগ করলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলার জন্য বলেন। এছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিবেন না।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস