খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই ৫০টিরও বেশি অবৈধ করাত কল: মাসিক ‘মাসোহারা’র বিনিময়ে ম্যানেজ প্রশাসন!

মোঃ আবু হুরাইরা মিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই ৫০টিরও বেশি অবৈধ করাত কল: মাসিক ‘মাসোহারা’র বিনিময়ে ম্যানেজ প্রশাসন!

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায় কোনো প্রকার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ৫০টিরও বেশি অবৈধ করাত কল (সমিল)। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক তদারকি ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসিক মোটা অঙ্কের ‘মাসোহারা’ প্রদান করে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে এসব করাত কল চালিয়ে যাচ্ছেন সমিল মালিকেরা।

করাত কল লাইসেন্স বিধিমালা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, আবাসিক এলাকা এবং সরকারি বনভূমির ৪০০ মিটারের মধ্যে কোনো করাত কল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। হাট-বাজার, জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং বিদ্যালয়ের কোল ঘেঁষেই চলছে ধোঁয়া ও বিকট শব্দের এসব অবৈধ করাত কল।

স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দিনে-রাতে একটানা বিকট শব্দে করাত কল চলায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বয়স্ক ও রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এসব মিলে কাঠ কাটার সময় নির্গত মিহি গুঁড়ো বাতাসে ভেসে গিয়ে শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুসের নানাবিধ ব্যাধি সৃষ্টি করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শৈলকূপায় অবস্থিত অর্ধশতাধিক করাত কলের সিংহভাগের কোনো হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এমনকি পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন কিংবা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নি-নির্বাপক ছাড়পত্রও গ্রহণ করা হয়নি। প্রতিটি মিলেই কাঠের বর্জ্য ও ভূষি যত্রতত্র ফেলে রাখা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক করাত কল মালিক জানান, “লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নেওয়ার ঝামেলা অনেক। তাছাড়া নিয়ম অনুযায়ী জায়গায় সমিল চালানো কঠিন। তাই প্রতি মাসে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। মাসোহারা ঠিকমতো পৌঁছে দিলে আর কোনো অভিযান বা ঝামেলা হয় না।”
আইন অনুযায়ী নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ করাত কল বন্ধ ও জরিমানা করার বিধান থাকলেও বাস্তবে শৈলকূপায় তা অদৃশ্য কারণে থমকে আছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত আর্থিক সুবিধার কারণেই প্রশাসন ও বন বিভাগ চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
ঝিনাইদহ জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, অবৈধ করাত কলের কারণে শুধু যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে তা-ই নয়, সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্য। দ্রুত এসব অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান না চালালে এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), শৈলকূপা: অবৈধ করাত কল ও মাসোহারা আদায়ের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগকে সাথে নিয়ে উপজেলায় অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর (ঝিনাইদহ/যশোর অঞ্চল): “ছাড়পত্র ছাড়া সমিল চালানোর কোনো সুযোগ নেই। শৈলকূপায় অবৈধভাবে পরিচালিত করাত কলগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”
প্রতিবেদকের মন্তব্য: আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই পারে শৈলকূপার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে। মাসোহারা কালচার বন্ধ করে দ্রুত অবৈধ সমিল বন্ধ ও উচ্ছেদ এখন সময়ের দাবি।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস