কালিয়াকৈরের ফলের দামে আগুন – সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নাগালের বাইরে
গাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগী, প্রেসারের রোগী, হার্টের রোগী, ডায়াবেটিস রোগী ও ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর জন্য এই সমস্ত ফল অতি জরুরি প্রয়োজন হয়, কিন্তু মানুষ এগুলো কিনতে পারছে না।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,কালিয়াকৈর বাজার, চন্দ্রা বাজার, মৌচাক বাজার, সফিপুর বাজার, কালামপুর বাজার, বোয়ালী বাজার, শ্রীফলতলী, আটাবহ, ফুলবাড়িয়া ও লতিফপুর বাজার ঘুরে ভয়াবহ চিত্র।
কালিয়াকৈরের ফলের বর্তমান দাম-কেজী
কমলা(বিদেশি ৫৫০ টাকা,
মাল্টা (বিদেশি)৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা,
আপেল৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা,
আঙুর ৪৫০ থেকে৫০০টাকা,
বেদানা/আনার ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা
ডাব (প্রতি পিস)১৫০ থেকে ১৮০টাকা
পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা
ড্রাগন ফল-১৫০ থেকে ২০০টাকা,
পেয়ারা -৮০ থেকে ১০০টাকা,
দেশি মাল্ট ৭০ থেকে ৮০ টাকা,
কাটিমন আম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা,
তরমুজ৭০ থেকে ৮০ টাকা,
সফিপুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন ,ভাই, এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ঢাকার বাদামতলী, কারওয়ান বাজারে বেশি দামে কিনি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়। এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।
মৌচাক বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আগে দিনে ২ মণ আপেল-কমলা বিক্রি করতাম, এখন ২০ কেজিও বিক্রি হয় না। মানুষ দাম শুনে চলে যায়।
তৌফিকা নাসরিন (৪০), কালামপুর গৃহিণী তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন,আমার স্বামী ক্যান্সারের রোগী। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন আপেল, মাল্টা, বেদানা, আঙুর খাওয়াতে। বাজারে এসে দেখি আপেল ৪০০ টাকা, বেদানা ৫০০ টাকা। আমার স্বামী গার্মেন্টসে কাজ করতো, এখন বেকার। ৮ হাজার টাকায় সংসার চলে না। আমি কেমনে এই ফল কিনমু? আমার স্বামী কি তাহলে ফল না খেয়ে মারা যাবে?
জয়নাল আবেদীন (৪৫), অটো চালক, মৌচাক আমার মায়ের হার্টের রোগ, প্রেসার বেশি। ডাক্তার বলেছে ডাবের পানি, পেঁপে, পেয়ারা খাওয়াতে। ডাব ১৫০ টাকা পিস! আগে ৪০ টাকায় ডাব কিনতাম। এখন ৪০০ টাকা ইনকামে কেমনে ১৫০ টাকা দিয়া ডাব কিনমু? মা’রে কি বিনা চিকিৎসায় মারমু?
রহিমা বেগম (৩৮),গার্মেন্টস শ্রমিক, সফিপুর আমার ছেলের ডেঙ্গু হয়েছে। ডাক্তার বলেছে বেশি বেশি মাল্টা, কমলার জুস, ডাবের পানি খাওয়াতে। বাজারে মাল্টা ৫০০ টাকা কেজি। আমার বেতন ৮ হাজার টাকা, ওভারটাইম নাই। আমি কেমনে কিনমু? আমার বুক ফাইটা যায়।
আব্দুল মালেক (৬০), ক্যান্সার রোগীর বাবা, বোয়ালীআমার মেয়ের ক্যান্সার। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা চলছে। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন আপেল, আঙুর, বেদানা লাগবে। কিন্তু ৫৫০ টাকা কমলা, ৪৫০ টাকা আঙুর – আমার মতো দিনমজুর কেমনে কিনবে? মেয়েটা ফলের দিকে তাকিয়ে থাকে, আমি কিনে দিতে পারি না। আমি বাবা হয়ে এটা সহ্য করতে পারি না।
ফাতেমা আক্তার (৩৫), ডেঙ্গু রোগীর মা, শ্রীফলতলী আমার বাচ্চার ডেঙ্গু, প্লাটিলেট কমে গেছে। ডাক্তার বলেছে ডাব, পেঁপে, মাল্টা খাওয়াতে। ডাব ১৫০ টাকা! ৩টা ডাব কিনলে ৪৫০ টাকা। আমার স্বামী অসুস্থ, আমি বাসায় কাজ করি। এত টাকা কই পামু?
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার মোকামেই ফলের দাম বেশি। ডলারের দাম বেশি, আমদানি খরচ বেশি, পরিবহন খরচ বেশি। তার ওপর ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যবসায় মন্দা। ফলে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।এলাকাবাসীর আকুতি, ক্যান্সার, হার্ট, প্রেসার, ডায়াবেটিস ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। কালিয়াকৈরের হাট-বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হোক। হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ ভর্তুকিতে ফল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। না হলে ফলের অভাবে অনেক রোগী বিনা পথ্যে মারা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]