খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরের ফলের দামে আগুন – সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নাগালের বাইরে

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরের ফলের দামে আগুন – সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা  নাগালের বাইরে

গাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগী, প্রেসারের রোগী, হার্টের রোগী, ডায়াবেটিস রোগী ও ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর জন্য এই সমস্ত ফল অতি জরুরি প্রয়োজন হয়, কিন্তু মানুষ এগুলো কিনতে পারছে না।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,কালিয়াকৈর বাজার, চন্দ্রা বাজার, মৌচাক বাজার, সফিপুর বাজার, কালামপুর বাজার, বোয়ালী বাজার, শ্রীফলতলী, আটাবহ, ফুলবাড়িয়া ও লতিফপুর বাজার ঘুরে ভয়াবহ চিত্র।
কালিয়াকৈরের ফলের বর্তমান দাম-কেজী
কমলা(বিদেশি ৫৫০ টাকা,
মাল্টা (বিদেশি)৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা,
আপেল৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা,
আঙুর ৪৫০ থেকে৫০০টাকা,
বেদানা/আনার ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা
ডাব (প্রতি পিস)১৫০ থেকে ১৮০টাকা
পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা
ড্রাগন ফল-১৫০ থেকে ২০০টাকা,
পেয়ারা -৮০ থেকে ১০০টাকা,
দেশি মাল্ট ৭০ থেকে ৮০ টাকা,
কাটিমন আম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা,
তরমুজ৭০ থেকে ৮০ টাকা,
সফিপুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন ,ভাই, এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ঢাকার বাদামতলী, কারওয়ান বাজারে বেশি দামে কিনি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়। এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।
মৌচাক বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আগে দিনে ২ মণ আপেল-কমলা বিক্রি করতাম, এখন ২০ কেজিও বিক্রি হয় না। মানুষ দাম শুনে চলে যায়।
তৌফিকা নাসরিন (৪০), কালামপুর গৃহিণী তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন,আমার স্বামী ক্যান্সারের রোগী। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন আপেল, মাল্টা, বেদানা, আঙুর খাওয়াতে। বাজারে এসে দেখি আপেল ৪০০ টাকা, বেদানা ৫০০ টাকা। আমার স্বামী গার্মেন্টসে কাজ করতো, এখন বেকার। ৮ হাজার টাকায় সংসার চলে না। আমি কেমনে এই ফল কিনমু? আমার স্বামী কি তাহলে ফল না খেয়ে মারা যাবে?
জয়নাল আবেদীন (৪৫), অটো চালক, মৌচাক আমার মায়ের হার্টের রোগ, প্রেসার বেশি। ডাক্তার বলেছে ডাবের পানি, পেঁপে, পেয়ারা খাওয়াতে। ডাব ১৫০ টাকা পিস! আগে ৪০ টাকায় ডাব কিনতাম। এখন ৪০০ টাকা ইনকামে কেমনে ১৫০ টাকা দিয়া ডাব কিনমু? মা’রে কি বিনা চিকিৎসায় মারমু?
রহিমা বেগম (৩৮),গার্মেন্টস শ্রমিক, সফিপুর আমার ছেলের ডেঙ্গু হয়েছে। ডাক্তার বলেছে বেশি বেশি মাল্টা, কমলার জুস, ডাবের পানি খাওয়াতে। বাজারে মাল্টা ৫০০ টাকা কেজি। আমার বেতন ৮ হাজার টাকা, ওভারটাইম নাই। আমি কেমনে কিনমু? আমার বুক ফাইটা যায়।
আব্দুল মালেক (৬০), ক্যান্সার রোগীর বাবা, বোয়ালীআমার মেয়ের ক্যান্সার। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা চলছে। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন আপেল, আঙুর, বেদানা লাগবে। কিন্তু ৫৫০ টাকা কমলা, ৪৫০ টাকা আঙুর – আমার মতো দিনমজুর কেমনে কিনবে? মেয়েটা ফলের দিকে তাকিয়ে থাকে, আমি কিনে দিতে পারি না। আমি বাবা হয়ে এটা সহ্য করতে পারি না।
ফাতেমা আক্তার (৩৫), ডেঙ্গু রোগীর মা, শ্রীফলতলী আমার বাচ্চার ডেঙ্গু, প্লাটিলেট কমে গেছে। ডাক্তার বলেছে ডাব, পেঁপে, মাল্টা খাওয়াতে। ডাব ১৫০ টাকা! ৩টা ডাব কিনলে ৪৫০ টাকা। আমার স্বামী অসুস্থ, আমি বাসায় কাজ করি। এত টাকা কই পামু?
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার মোকামেই ফলের দাম বেশি। ডলারের দাম বেশি, আমদানি খরচ বেশি, পরিবহন খরচ বেশি। তার ওপর ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যবসায় মন্দা। ফলে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।এলাকাবাসীর আকুতি, ক্যান্সার, হার্ট, প্রেসার, ডায়াবেটিস ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। কালিয়াকৈরের হাট-বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হোক। হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ ভর্তুকিতে ফল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। না হলে ফলের অভাবে অনেক রোগী বিনা পথ্যে মারা যাবে।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস