খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

সৌদিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুলের মৃ’ত্যু’দ’ণ্ড কার্যকর, বাড়িতে শোকের মাতম

হাসান জাবেদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুলের মৃ’ত্যু’দ’ণ্ড কার্যকর, বাড়িতে শোকের মাতম

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবার কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

নজরুল ইসলাম সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের হাল ধরতে এসএসসি পাসের পর ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মক্কা নগরীর পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ নেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর থেকে নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে হঠাৎ একদিন কারাগার থেকে ফোন করে তিনি পরিবারকে জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন নজরুল।

পরিবারের দাবি, গত রোববারও নজরুলের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন তারা। তিন বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর পরিবার কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে না জানিয়েই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলকে যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার মা-বাবা।
ছেলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। একসঙ্গে দুটি শোকের আঘাতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এ ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোকাহত মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল কি না এবং নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা নজরুল ইসলামের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাঈদ জানান, নজরুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

“নতুন পথে প্রত্যাবর্তন”স্লোগানে সিরাজগঞ্জে সর্বহারা চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার এসআরবি-১২ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার মোট ৬৫ জন চরমপন্থী অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, পাবনা জেলার ৪৫ জন এবং রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মোঃআহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন,চরমপন্থার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। আত্মসমর্পণকারীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধের পথ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ এসআরবি ফোর্সেসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।