রাজশাহীতে যেখানে দেবী বিসর্জন হয় না তাহেরপুরে স্থায়ী অষ্টধাতুর প্রতিমা দর্শনে ভক্তের ঢল
উপমহাদেশে প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসবের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রবিন্দু রাজশাহীর বাগমারার ঐতিহাসিক তাহেরপুর শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দির। রাজা শ্রী কংস নারায়ণ রায়ের স্মৃতিধন্য এই পবিত্র রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মুখরিত হতে চলেছে।
ইতিহাস ও সনাতনী ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়া এই প্রাঙ্গণে মায়ের স্থায়ী অষ্টধাতুর প্রতিমা দর্শনে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর পদচারণায় এক মহামিলনমেলার সৃষ্টি হয়। এটি কেবল একটি পূজামণ্ডপ নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার এক অনন্য প্রতীক।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী,১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর এই তাহেরপুরের মাটি থেকেই সমগ্র উপমহাদেশে প্রথম আধুনিক ও সাড়ম্বর শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা করেছিলেন। সেই ইতিহাসকে ধরে রাখতেই এই রাজবাড়ি আজও তীর্থভূমি।
পূজা হয় সারা বছর সাধারণ পূজামণ্ডপের মতো এখানে দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। যুগ যুগ ধরে সনাতনী সংস্কৃতি ও ভক্তির আলো ছড়িয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে চির অম্লান করে রাখতে ২০১৮ সালে মন্দিরটিতে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয় এক অপূর্ব ও নয়নাভিরাম অষ্টধাতুর প্রতিমা।
প্রায় এক টন ওজনের ব্রোঞ্জ ও অষ্টধাতুতে তৈরি মা দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের এই মহিমাময় রূপ সারা বছরই নিত্য পূজিত হন। ফলে শুধু দুর্গাপূজার পাঁচ দিন নয়, বছরজুড়েই ভক্তরা এখানে এসে মায়ের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি কেবল ধর্মীয় আস্থার প্রতীক নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রতিটি জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য লালনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। বছরজুড়ে এবং বিশেষ করে দুর্গোৎসবের দিনগুলোতে সকল সম্প্রদায়ের হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে সমবেত হন।
অবস্থান: তাহেরপুর পৌরসভা, বাগমারা, রাজশাহী প্রতিষ্ঠা:১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে রাজা কংস নারায়ণ রায় কর্তৃক প্রথম দুর্গোৎসবের সূচনা,বিশেষত্ব:১টন ওজনের স্থায়ী অষ্টধাতু/ব্রোঞ্জ প্রতিমা, বিসর্জন হয় না,স্থাপনকাল: ২০১৮ সালে স্থায়ী প্রতিমা স্থাপন
ছবি ক্যাপশন হতে পারে:তাহেরপুর রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে স্থায়ীভাবে স্থাপিত এক টন ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গা প্রতিমা। এখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না।


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]