খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

রাজশাহীতে যেখানে দেবী বিসর্জন হয় না তাহেরপুরে স্থায়ী অষ্টধাতুর প্রতিমা দর্শনে ভক্তের ঢল

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে যেখানে দেবী বিসর্জন হয় না তাহেরপুরে স্থায়ী অষ্টধাতুর প্রতিমা দর্শনে ভক্তের ঢল

উপমহাদেশে প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসবের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রবিন্দু রাজশাহীর বাগমারার ঐতিহাসিক তাহেরপুর শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দির। রাজা শ্রী কংস নারায়ণ রায়ের স্মৃতিধন্য এই পবিত্র রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মুখরিত হতে চলেছে।

ইতিহাস ও সনাতনী ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়া এই প্রাঙ্গণে মায়ের স্থায়ী অষ্টধাতুর প্রতিমা দর্শনে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর পদচারণায় এক মহামিলনমেলার সৃষ্টি হয়। এটি কেবল একটি পূজামণ্ডপ নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার এক অনন্য প্রতীক।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী,১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর এই তাহেরপুরের মাটি থেকেই সমগ্র উপমহাদেশে প্রথম আধুনিক ও সাড়ম্বর শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা করেছিলেন। সেই ইতিহাসকে ধরে রাখতেই এই রাজবাড়ি আজও তীর্থভূমি।

পূজা হয় সারা বছর সাধারণ পূজামণ্ডপের মতো এখানে দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। যুগ যুগ ধরে সনাতনী সংস্কৃতি ও ভক্তির আলো ছড়িয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে চির অম্লান করে রাখতে ২০১৮ সালে মন্দিরটিতে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয় এক অপূর্ব ও নয়নাভিরাম অষ্টধাতুর প্রতিমা।

প্রায় এক টন ওজনের ব্রোঞ্জ ও অষ্টধাতুতে তৈরি মা দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের এই মহিমাময় রূপ সারা বছরই নিত্য পূজিত হন। ফলে শুধু দুর্গাপূজার পাঁচ দিন নয়, বছরজুড়েই ভক্তরা এখানে এসে মায়ের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।

রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি কেবল ধর্মীয় আস্থার প্রতীক নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রতিটি জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য লালনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। বছরজুড়ে এবং বিশেষ করে দুর্গোৎসবের দিনগুলোতে সকল সম্প্রদায়ের হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে সমবেত হন।
অবস্থান: তাহেরপুর পৌরসভা, বাগমারা, রাজশাহী প্রতিষ্ঠা:১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে রাজা কংস নারায়ণ রায় কর্তৃক প্রথম দুর্গোৎসবের সূচনা,বিশেষত্ব:১টন ওজনের স্থায়ী অষ্টধাতু/ব্রোঞ্জ প্রতিমা, বিসর্জন হয় না,স্থাপনকাল: ২০১৮ সালে স্থায়ী প্রতিমা স্থাপন
ছবি ক্যাপশন হতে পারে:তাহেরপুর রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে স্থায়ীভাবে স্থাপিত এক টন ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গা প্রতিমা। এখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না।

সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

“নতুন পথে প্রত্যাবর্তন”স্লোগানে সিরাজগঞ্জে সর্বহারা চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার এসআরবি-১২ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার মোট ৬৫ জন চরমপন্থী অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, পাবনা জেলার ৪৫ জন এবং রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মোঃআহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন,চরমপন্থার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। আত্মসমর্পণকারীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধের পথ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ এসআরবি ফোর্সেসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।