বীর প্রতীক রফিকুল ইসলাম হত্যাচেষ্টা মামলা: সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি কারাগারে
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বহুল আলোচিত বীর প্রতীক রফিকুল ইসলাম হত্যাচেষ্টা মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত তিন পলাতক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছেন। তবে শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন: গজারিয়া উপজেলার মধ্য ভাটেরচর গ্রামের জিএম শহিদুল্লার দুই ছেলে জাহিদুল হাসান আকাশ (২২) ও হাছিবুল হাসান শান্ত (২০), এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইদুজ্জামান সজীব (২৪)।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মওদুদ আহমেদ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের দিন আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মদিনা টিম্বার-এর সামনে বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ নভেম্বর বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম ডালিম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত ১৮ অক্টোবর আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হলেও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১৫ বছর বয়সে বীর প্রতীক রফিকুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ, টংগিবাড়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দি, হোমনা ও ঢাকার মাতুয়াইলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন ।


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]