খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর থেকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিনের আয় দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

শ্রমিকরা জানান, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাস শেষে হাতে কোনো টাকা থাকছে না। অনেককে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

বর্তমান বেতন কাঠামোতে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। এ সময় তাঁরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তবে শ্রমিকদের দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

“নতুন পথে প্রত্যাবর্তন”স্লোগানে সিরাজগঞ্জে সর্বহারা চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার এসআরবি-১২ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার মোট ৬৫ জন চরমপন্থী অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, পাবনা জেলার ৪৫ জন এবং রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মোঃআহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন,চরমপন্থার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। আত্মসমর্পণকারীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধের পথ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ এসআরবি ফোর্সেসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।